ফেসবুকে শিক্ষককে কটূক্তি করায় ঢাবির ৭ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক শিক্ষককে নিয়ে অশোভন মন্তব্য করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৭ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে সিন্ডিকেট।
সোমবার এক নোটিশের মাধ্যমে এই বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, ওই বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের খাইরুন নিসা, উম্মে হাবিবা তানজিলা, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মিনহাজুল আবেদিন, ফাতিমা, সামিরা মাহজাবিন, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ-হীল-বাকী ও অদিতি সরকার।
এদের মধ্যে খাইরুন নিসা ও মিনহাজুল আবেদীনকে ১ বছর ও বাকীদের ৬ মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সেমিষ্টার পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদেরও এক বছর পিছিয়ে পড়তে হবে বলে জানা গেছে।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার হলে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ কে এম রেজাউল করিম কয়েকজন শিক্ষর্থীকে শাস্তি দেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে নিজেদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন। একজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষককে ‘টাক’ বলে মন্তব্য করেন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে বিভাগের একাডেমিক কমিটি তদন্ত করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী জানান, আমরা আমাদের নিজেদের টাইম লাইনে কথা বলেছি। ওখানে কোন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। আমরা কি বলেছি, কেন বলেছি আমাদের কাছ থেকে কোন কিছু জানতে চাওয়া হয়নি। এখন পরিবার ও বন্ধুদের কাছে মুখ দেখানোও কষ্ট হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মাহফুজা খানম বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রক্টরিয়ার বডির সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। তবে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কৃত হওয়া শিক্ষার্থীদের একবছর ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন শিক্ষককে নিয়ে অশোভন মন্তব্য করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাদের বিভিন্ন মেয়াদের জন্য বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।