৯৮ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠা সেই ১৯২১ সালের ১ জুলাই। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে ৯৭ বছর। শত বছর পূর্তি হতে আর মাত্র তিন বছর বাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)। দীর্ঘ এ চলার পথে দেশে উচ্চশিক্ষায় যেমন নেতৃত্ব দিয়েছে, তেমনি পথ দেখিয়েছে বাঙালি জাতির ক্রান্তিলগ্নেও। বাঙালি জাতির ‘আলোকস্তম্ভ’ হয়ে আছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাবি।
অবহেলিত পূর্ববাংলার বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউটরিয়াল, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আবাসিক সুবিধার নিয়মনীতি তৈরি করা হয়েছিল অক্সফোর্ডের আদলে। এ কারণেই এক সময় এ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো। কিন্তু এখন আর সেই পরিবেশ নেই। তবে বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা এখনও আছে। এখনও দেশের যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
রবিবার নানা আন্দোলন-সংগ্রাম, চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেই এ বিশ্ববিদ্যালয় ৯৮ বছরে পদার্পণ করছে। প্রতিবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’।
৯৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এরই মধ্যে ক্যাম্পাসকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন হল, বিভাগ, অনুষদ আর ইনস্টিটিউট হাতে নিয়েছে নানা কর্মসূচি।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, কার্জন হল, কলা ভবন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবন, টিএসসিসহ বেশকিছু ভবনে বাহারি রঙের বাতির ছড়াছড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরগুলো সাজানো হয়েছে বেলুন, ফেস্টুন আর আলপনায়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ দিবস উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি সাবেক শিক্ষার্থীদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা-গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তিসহ জ্ঞানের সব শাখায় এগিয়ে যাচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রবিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মল চত্বরে জাতীয় পতাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোর পতাকা উত্তোলন, পায়রা ওড়ানো এবং উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন হল থেকে শোভাযাত্রাসহ প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মল চত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে শোভাযাত্রা সহকারে টিএসসিতে যাওয়া হবে। এরপর টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন পল্লীকর্মসহায়ক সংস্থার চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একটি ওয়েবসাইট খোলা হবে। ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এছাড়া শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সব অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হল দিনব্যাপী নিজস্ব কর্মসূচি পালন করবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ১ জুলাই ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। তবে হল, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অফিস যথারীতি খোলা থাকবে।
প্রসঙ্গত, ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, তিনটি আবাসিক হল, ৬০ শিক্ষক এবং ৮৭৭ শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ৮৪টি বিভাগ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৫৪টি গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র, ২০টি আবাসিক হল ও তিনটি হোস্টেল রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৯ হাজার ৪৯৬ এবং শিক্ষক সংখ্যা ১ হাজার ৯৯৯ জন। ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বর্তমানে এর জমির পরিমাণ ২৭৫.০৮৩ একর।