প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগ মুহূর্তে কলঙ্কিত ঢাবি
আগামীকাল রোববার প্রতিষ্ঠার ৯৭তম বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য ইতোমধ্যেই বর্ণিল সাজে সেজেছে দেশসেরা এই বিদ্যাপিঠ। সম্পন্ন হয়েছে সকল আয়োজনও। তবে বষর্পূর্তির ঠিক আগের দিন সেই আয়োজনে রক্তের দাগ লাগায় অনেকেই হতবাক। যা দেখে গোটা দেশ তো বটেই, খোদ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরাও হয়েছেন আশ্চার্যান্বিত।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে হামলা চালিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এ নিয়ে উত্তপ্ত ক্যম্পাসে আতঙ্কও বিরাজ করছে। ফলে কাল জন্মবার্ষিকীর আয়োজন কতটা সফল প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর শঙ্কা।
‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে উ”চশিক্ষা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছর জন্মদিন পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। তবে এমন আনন্দঘন মুহুর্তের ঠিক আগেই দ্রোহ, আতঙ্ক আর বিষাদের ছাপ নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
দীর্ঘদিন ধরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের প্রেক্ষিত্রে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্ত সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘোষণার আড়াই মাস পার হলেও কোটা বাতিল নিয়ে কোন আদেশ জারি না হওয়ায় ফের স্বো”চার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আজ সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। সেখানেই হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান সাংবাদিকদের জানান, এতে তাদের সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, আতাউল্লাহ, আরিফ, মামুন ও জসিস সহ ১২-১৩ জন কর্মী মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল থেকে পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমানকে ছাত্রলীগের কয়েকজন তুলে নিয়ে গেছেন বলেও অবিযোগ করেন তিনি। এমন অবস্থায় ক্যম্পাসে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে আজকের ঘটনার তীব্র ক্ষোভ তৈরী করেছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষের মাঝে। হামলার স্থির ও ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে নিন্দার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম লিখেছেন, ‘একজন শিক্ষকের পা জড়িয়ে ধরে হামলা থেকে বাঁচার চেষ্টা করা কোটা আন্দোলনকারী ছাত্রের ছবি দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেল! আগামী দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এ দিবসের আগের দিন এমন একটি ছবি দেখার পর মন না খারাপ হবার কোন কারন নেই। আমাদের বিবেক না কাঁদলেও ঘটনার সময় উপস্থিত একজন শিক্ষক ছাত্রটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। সে শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থগারিক অধ্যাপক ড. এস এম জাবেদ আহমদের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সেই সাথে এ হামলার জন্য জানাই নিন্দা।’
এদিকে, ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।