২৮ মে ২০১৮, ১৭:২৫

ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি মুহাম্মদ সামাদ

ফাইল ছবি

আগামী চার বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক তাকে এই নিয়োগ প্রদান করেছেন। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তারপর থেকে এ পদটি খালি ছিল।

২৭ মে, রোববার এ বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রো-ভিসি হিসেবে এ নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে এর আগেই্ এই নিয়োগাদেশ বাতিল করতে পারবেন।

এদিকে, ২৮ মে, সোমবার সকালে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

বর্তমানে তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামীলীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বরত। এর আগে তিনি চার বছর (২০১২- ২০১৬) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস এর ভিসি হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের জন্ম ময়মনসিংহ জেলার জামালপুরে ১৯৫৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত। তার ৩৪ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইনোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে ২০০৫ এবং ২০০৯ সালে পর-পর দুইবার পাঠদান করেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরিচালক (২০০৯-২০১২) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯-২০১৬ দুই মেয়াদে সিনেট সদস্য এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-২০১৬ পর্যন্ত সিনেট সদস্য ছিলেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই মেয়াদ ২০০৯-২০১২ এবং ২০১৩-২০১৬), মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯-২০১৬ ও ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভে ২০১১-২০১৬ পর্যন্ত সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন।

তিনি সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের হাউস টিউটর (১৯৯৬-২০০৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের (২০১১) সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ গবেষণা ফেলো হিসেবে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাথেরিন ক্যান্ডাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যাল ওয়ার্ক; জাপানস্থ টোকিওতে কলেজ অব সোশ্যাল ওয়ার্ক-এ ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে ৩টি গবেষণা সম্পন্ন করেন এবং তা প্রকাশিত হয়; বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ কাউন্সিলে ২০১২ ও ২০১৫ সালে দুটি ফেলোশিপ গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তার একাধিক প্রমোশনাল রিসার্চ রয়েছে।

তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠকদের অন্যতম এবং তিন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদদের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কাব্যক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি সৈয়দ মুজতবা আলী সাহিত্য পুরস্কার, কবি সুকান্ত সাহিত্য পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার, ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার, কবি বিষ্ণু দে পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতসহ অনেক সম্মাননা লাভ করেন।