২৫ আগস্ট ২০২০, ২১:১৯

রাবিতে যৌন হয়রানির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

  © ফাইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) উপ-পরিচালক রাকিবুল হাসান রবিনের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশন। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে সংগঠনটির সভাপতি আশরাফুল আলম সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলন ও অর্থ সম্পাদক রিয়াজ হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। কয়েক মাস আগে চারুকলা বিভাগের এক শিক্ষকের নামে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষদের নামেও এমন নিপীড়নের অভিযোগ বরাবরই জানা যায়। কিন্তু এসব ঘটনার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার আমরা দেখিনি।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা ও অভিযোগ সেল থাকলেও প্রায় সময় সেটি অকার্যকর ও অভিযোগ সেলের সীমিত ক্ষমতার কারণে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের বিচার না হওয়ার যে সংস্কৃতি তার ফলেই নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল আলম সম্রাট দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, রাবির টিএসসিসি’র সঙ্গীত প্রশিক্ষক রাকিবুল হাসান রবিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু এই ঘটনায় নয়, বিগত সময়ের সকল নারী নিপীড়নের ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলন বলেন, এ যাবৎ দাখিলকৃত সকল যৌন হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা সময়ের দাবি। যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করতে হলে অবশ্যই সংঘটিত সকল নিপীড়নের বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

তিনি সকল শিক্ষার্থীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনার সাথে বা আপনার বন্ধুর সাথে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলে অবশ্যই সাহস করে ধর্ষক বা নিপীড়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করুন এবং রুখে দাঁড়ান।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৩ আগস্ট) ভুক্তভোগী ও তার পরিবার বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। প্রায় দশ বছর আগে গান শিখতে গিয়ে তরুণীটি তার গানের শিক্ষক রাকিবুল হাসান রবিনের কাছে ধর্ষণ ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। যার ফলে ওই তরুণীর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লোকলজ্জা ও রবিনের ব্লাকমেইলের কারণে এতদিন তিনি কিছু বলার সাহস করেননি। তিনি ছাড়াও আরো অনেকেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সামজিক সমর্থন না পাওয়ার কারণে কেউ বলতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।