১০ জুন ২০২০, ১৮:১৪

ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, বিচার না পেয়ে একাই রাজপথে বাবা

মেয়ের ধর্ষণকারীর বিচার চান বাবা  © সংগৃহীত

দুলাভাইয়ের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল স্কুলছাত্রী ইভা খাতুন (১২)। বিচার না পেয়ে লজ্জা ও অভিমানে আত্মহত্যা করে মেয়েটি। আত্মহত্যার দুই মাসেও সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ায় অবশেষে একাই রাস্তায় দাড়ালেন ইভার বাবা। আজ বুধবার (১০ জুন) রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা পরিষদের সামনে ইভা খাতুনের বাবা ভ্যানচালক সেলিম হোসেন বিচারের আশায় ব্যানার নিয়ে একাই দাঁড়িয়ে পড়েন। ইভা পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি মাসে উপজেলার হলহোলিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এখলাস আলীর সঙ্গে তার বড় মেয়ের বিয়ে দেন। মার্চের শেষের দিকে ছোট মেয়ে ইভা তার বোনের বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখানে এক সপ্তাহ থাকে। এরপর বাড়ি ফিরে কারও সঙ্গে কথা বলত না। পরে সে তার মাকে জানান, দুলাভাই জুসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার পর বড় মেয়েকেও জামাইয়ের বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন সেলিম।

বাবা সেলিম হোসেন বলেন, জামাইয়ের পরিবারকে জানিয়েও ঘটনার বিচার পাইনি। গত ৯ এপ্রিল সকালে আমি ভ্যান চালাতে রাজশাহী শহরে যাই। সেখানে যাওয়ার পর ছোট মেয়ের আত্মত্যার খবর পাই। ওইদিন দুপুরে ইভা ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে মারা যাওয়ার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেছে। লোকমুখে শুনছি আসামি প্রকাশ্যে তার এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিশ নাকি তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। আমি ভ্যানচালক গরীব মানুষ, তাই হয়তো মেয়ের ওপর নির্যাতন ও তার আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের সঠিক বিচার হবে না। এজন্য একাই রাস্তায় দাঁড়ালাম।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, মামলার তদারকিতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি নেই। আসামিদের আটক করতে আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। আর আসামিদের কোনো সন্ধান পেলে ওই পরিবারকেও আমাদের জানাতে বলেছি।