১৭ মার্চ ২০১৯, ১৯:০১

বয়ফ্রেন্ডকে বেঁধে রেখে গার্লফ্রেন্ডকে গণধর্ষণ, ভিডিও ধারণ

  © ফাইল ফটো

টাঙ্গাইলের সখিপুরে প্রেমিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে প্রেমিকাকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর প্রেমিক যুগলকে দিগম্বর (বিবস্ত্র) করে মুঠোফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। এ ঘটনায় রবিবার দুপুরে ধর্ষিত কিশোরীর বাবা সখিপুর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে সখিপুর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ জালাল উদ্দিন নামের এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে। কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্যে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলার সূত্রে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে ওই কিশোরী তার প্রেমিকের সঙ্গে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের উলিয়াচালা খেলার মাঠের পাশে বসে গল্প করছিল। এ সময় ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘাটেশ্বরী গ্রামের ইস্রাফিল মিয়ার বখে যাওয় ছেলে সাদ্দাম হোসেন তার বন্ধু আশরাফুল, জালাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও আফাজ উদ্দিন মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যায়। যাওয়ার পর তাদের গোপন অভিসারের গতিবিধি অনুসরণ করে।

পরে ওই প্রেমিক যুগলের হাত মুখ বেঁধে পাশের একটি বনে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রেমিক আবদুর রহিমকে (বাবু) গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে সাদ্দাম, আশরাফুল ও জালাল ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। এরপর প্রেমিক যুগলকে বিবস্ত্র করে তাদের নানা আপত্তিকর দৃশ্যও মুঠোফোনে ধারণ করে তারা।

বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে তাদের ওপর এ পাশবিক নির্যাতন। রাত ৯টার দিকে ঘটনা কাউকে বললে অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ফেসবুক ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী জানায়, আমার বন্ধুকে নিয়ে আলাপ করছিলাম। হঠাৎ ওরা আমাদের কাছে এসে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে জোরপূর্বক আমাদের তুলে নিয়ে যায়। আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হিরো তালুকদার বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এর সঙ্গে জড়িতরা এলাকার চিহ্নিত বখাটে। এ অমানবিক ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি। ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমি অসহায় দরিদ্র মানুষ। আমার মেয়েটার যে বখাটেরা সর্বনাশ যারা করলো আমি তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

সখিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার আইও এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ভিডিও ধারণ করা মুঠোফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে।’