মাত্র ১৫ হাজার টাকায় জিপিএ-৫!
মাত্র ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় শিক্ষার্থীদের ‘এ’ গ্রেড থেকে ‘এ-প্লাস’ তথা জিপিএ-৫ এর নিশ্চয়তা দিত তারা। ‘বি’ গ্রেড থেকে ‘এ’ গ্রেডে ফল পরিবর্তন করে দেওয়া হতো। রাজধানীর মতিঝিল থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার চারজন এ স্বীকারোক্তি দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে এমন চটকদার ও ভুয়া তথ্য দিয়ে তারা প্রতারণা করে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গতরাতে রাজধানীর ফকিরাপুলের জোনাকি হোটেলের সামনে থেকে এ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন, মো. আব্দুল ফাহিম (২০), মো. শামীম আহম্মেদ (১৯), মো. সোহেল রানা (১৭) ও মো. নবীন আলী (২২)। নিজেদেরকে হ্যাকার বলেও দাবি করেছে তারা।
এ বিষয়ে আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, ফেসবুকে গ্রুপ খুলে শিক্ষার্থীদের ভুয়া তথ্য দিয়ে তারা এসএসসির ফলাফল পরিবর্তন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। তাদের আইটি বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘এ’ গ্রেড থেকে ‘এ-প্লাস’ এবং ‘বি’ গ্রেড থেকে ‘এ’ করে দেয়ার ‘নিশ্চয়তা’ দিত। এরমাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত এ চক্র। তিনি বলেন, ফল পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে তারা।
আবদুল বাতেন বলেন, চক্রটি ধরা হলেও এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকতদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কোমলতি শিক্ষার্থীরা না বুঝে এসব চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিবির প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ি, গ্রেফতার হওয়া ফাহিম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো, ইউটিউব এবং হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র ‘ফাঁস’ করত। ২০১৮ সালে একই অপরাধে সে একবার গ্রেফতার হয়েছিল র্যাবের হাতে। ছয় মাস জেল খেটে বের হয়ে আবারওে এ কাজ শুরু করে সে। এছাড়া শামীম ও সোহেল রানা ২০১৮ সাল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত। আর নবীন আলী ভুয়া প্রশ্ন বিক্রি করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিকট থেকে ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আদায় করত।