ট্রেনে ঈদযাত্রা
স্টেশনে গিয়ে যাত্রী জানতে পারছেন টিকিট জাল
- টিডিসি রিপোর্ট
- প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৯:০৬ AM , আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৯:০৬ AM

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের শতভাগই বিক্রি হয়েছে অনলাইনে। প্রযুক্তি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে টিকিট কাটার জন্য অনেকেই কম্পিউটার দোকানের দ্বারস্থ হন। আবার অনেকে অনলাইনে টিকিট না পেয়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ থেকে টিকিট সংগ্রহ করছেন। আর এ সুযোগে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে কিছু প্রতারক।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট চেকিং পয়েন্ট অসংখ্য জাল টিকিট ধরা পড়েছে।
স্টেশনে জাল টিকিট এনে ধরা পড়া সোহেল রানা বলেন, ‘অনলাইনে অনেক চেষ্টা করে টিকিট কাটতে পারিনি। পরে ফেসবুকের একটা গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেখে সেখান থেকে সৈয়দপুরে যাওয়ার জন্য একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেছিলাম। স্টেশনে টিকিট চেকিং করে বলা হচ্ছে, টিকিট জাল। আমরা তো সাধারণ যাত্রী, বোঝার উপায় নেই কোনটা জাল কোনটা সঠিক। ফলে একপ্রকার বিপদেই পড়েছি। এখন স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যেতে হচ্ছে। এতে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি অর্থদণ্ডও হলো।’
মমতাজ উদ্দিন নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘অনলাইনে টিকিট পাইনি বলে একটা দোকান থেকে টিকিট কেটেছি। আমি তো জানি না টিকিট জাল কিনা। বাড়ি যেতে হবে টিকিটের প্রয়োজন ছিল, টিকিট কেটে নিয়ে এসেছি। স্টেশনে এসে বুঝলাম টিকিটটা জাল। এখন কীভাবে যাব বুঝতেছি না। আমি ঢাকা থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে সান্তাহার যাব গ্রামের বাড়ি ঈদ করতে।’
পরিবারের ৪ সদস্যকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে গাছিহাটা রেলওয়ে স্টেশন যেতে এসেছেন একজন মহিলা। তার টিকিটে ৪ জন পূর্ণবয়স্কের ভাড়া দেখানো হয়েছে। কিন্তু পস মেশিনে চেক করে দেখা যায়, সেই টিকিটে একজন পূর্ণবয়স্ক ও তিনজন শিশুর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। পরে জরিমানাসহ আরও তিনজন পূর্ণবয়স্কের ভাড়া আদায় করা হয়।
স্টেশনে থাকা টিকিট চেকাররা জানান, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও কম্পিউটার দোকানগুলোতে জাল টিকিট সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ অনলাইনে বাচ্চাদের একটা টিকিট কেটে সেই টিকিটকে ফটোশপে এডিট করে যাত্রীদের যার যেমন প্রয়োজন, সেখানে সিট সংখ্যা বসিয়ে পিডিএফ ফাইল আকারে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে যাত্রীরা এসব টিকিট কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের এক বাণিজ্যিক কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকে এ রকম অসংখ্য জাল টিকিট পাওয়া গেছে। তাদের অনেককে বের করে দেওয়া হয়েছে স্টেশন থেকে আবার অনেককে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করে ট্রেনে যেতে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মানুষজন নিজে অনলাইন থেকে টিকিট না কিনে দোকান থেকে টিকিট কিনছেন। ফলে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, যার টিকিট সে অনলাইন থেকে সংগ্রহ করুন। না হলে আপনারা কিন্তু প্রতারিত হবেন। স্টেশন বা ট্রেনে জরিমানার শিকার হবেন।