নকল ওয়েবসাইট তৈরির অভিযোগে সেই পিএইচডি গবেষক আটক
দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার পিএইচডি গবেষক এনামুল হককে আটক করেছে র্যাব-২। এনামুলের বিরুদ্ধে বিবিসি বাংলা ও প্রথম আলোসহ ২২টি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট হুবহু নকল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে তাঁকে আটক করে করা হয়।
এনামুল দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসব ওয়েবসাইট তৈরী এবং সেগুলো পরিচালনার কাজ করতেন বলে জানিয়েছে র্যাব। এর আগে গত বুধবার দেশের ফেরার পর থেকেই অপহরণ হওয়ার অভিযোগ তুলে তার পরিবার। এ নিয়ে গত ২১ নভেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তবে তার অপহরণের ঘটনাটি সাজানো ছিল বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এনামুল হক অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর পরিবার অপহরণের কথা জানাবে। এই সুযোগে তিনি কোরিয়া পালিয়ে যাবেন।
এনামুলের স্ত্রী নাজমিন সুলতানা শুক্রবার গণমাধ্যমে জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে ২৩ অক্টোবর দেশে এসেছিলেন এনামুল। বুধবার রাত একটার দিকে ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে তাঁর ফেরার কথা ছিল। সে জন্য তিনি বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি ঘুরে বিমানবন্দরের কাছে আশকোনায় এক বন্ধুর ছোট ভাইয়ের বাসায় উঠেছিলেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে নিজের ছোট হ্যান্ড ট্রলি আর ল্যাপটপের ব্যাগ কাঁধে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হন এনামুল। সর্বশেষ কোরিয়া থেকে শাকিল নামে এক পরিচিত ছোট ভাই ফোন করলে এনামুল তাঁকে জানান, তিনি বিমানবন্দরে ঢোকার মুখেই রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর কোনো খোঁজ নেই। যে এয়ারলাইনসে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে তাঁরা খোঁজ নিয়েও কিছু পাননি।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতে এনামুলের এক পরিচিতের কাছে অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলা হয় এনামুলের পরিবারকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। পরে এনামুলের স্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।
এনামুলের স্ত্রী বলেন, ওই নম্বরে ফোন করা হলে তারা এনামুলের বাংলাদেশে ব্যবহৃত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে জানায়, এনামুল ভালো আছে, সমস্যা নেই। যা বলা হবে সব গোপন রাখতে হবে। তারাই এনামুলকে গুম করে রেখেছে। এরপর কথিত অপহরণকারীরা বৃহস্পতিবার রাতে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। ভোর ছয়টার মধ্যে টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়। অনেক চেষ্টা করে শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠাই। অপহরণকারীরা আধঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলে। এরপর থেকেই তাদের ফোনগুলো বন্ধ।
এদিকে সম্প্রতি নকল হওয়া কয়েকটি ওয়েবসাইটের উল্লেখ করে সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে র্যাবের কাছে অনলাইনে বেশ কয়েকটি চিঠি আসে। এ বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে উঠে আসে এনামুলের নাম। এনামুলকে আটক করতে র্যাব অভিযান চালায়। আজ সকালে তাকে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
শনিবার র্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, আটককৃত এনামুল হক কোরিয়ায় বসে ২২টি খ্যাতনামা গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকল করেছিলেন। ধূর্ত এনামুল বাংলাদেশ থেকে মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে ডোমেইন কিনতেন। এরপর কোরিয়ায় গিয়ে নকল সাইট তৈরি করতেন।
র্যাব সূত্র জানায়, এনামুল বৃত্তি পেয়ে কোরিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় চলে যান। সেখানে বসে এসব নকল সাইট তৈরি করতেন। নকল সাইট তৈরির সঙ্গে বাংলাদেশ, কোরিয়া ও ইতালিতে বিশাল একটি চক্র আছে। এ ব্যাপারে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।