২৯ আগস্ট ২০২৩, ২৩:৩১

অভিভাবকের বিরুদ্ধে শিক্ষককে মারধর করার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া  © ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকের হাতে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক মারধরে শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ‍উপজেলার দেবগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে অভিভাবক সমাবেশ শেষে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় আখাউড়া উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল খারাপ হয়। দেবগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৪.৫৫। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিদ্যালয়গুলোতে অভিভাবক সমাবেশ করছে শিক্ষা অফিস। মঙ্গলবার দুপুরে দেবগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সমাবেশ শেষে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন শিক্ষকরা। এসময় দেবগ্রাম গ্রামের শেখ সোহেল ও জসিম উদ্দিন দেওয়ানসহ আরও একজন অভিভাবক এসে ভুক্তভোগী শিক্ষককে কিল ঘুষিসহ মারধর করেন। এসময় শিক্ষক ফারুক আহমেদ ও গনেস চন্দ্র দাস তাকে রক্ষা করতে এসে তারাও হামলার শিকার হন। 

মারধরের শিকার শিক্ষক তানভীর আহমেদ আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। তিনি দেবগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। এ ঘটনায় শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।  

মারধরের শিকার শিক্ষক তানভীর আহমেদ জানান, সমাবেশে পরীক্ষার ফলাফল খারাপের জন্য শিক্ষকদের দোষারোপ করে বক্তব্য দেন কয়েকজন অভিভাবক। এসময় প্রধান শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকদের সমাবেশে বসার ও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এসময় হঠাৎ আমার উপর আক্রমন করা হয়। বিদ্যালয়ে গেলে হাত পা ভেঙে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছেন শেখ সোহেল-অভিযোগ ওই শিক্ষকের।

স্কুলের এক শিক্ষক জানান, প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া অনেক ছাত্রছাত্রীকে চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এজন্যই ফলাফল খারাপ হয়েছে। সমাবেশে বিষয়গুলো আমাদের বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। মুলত আমাদের অপমান করার জন্য এ সমাবেশ করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ সোহেল বলেন, আমি ওই শিক্ষককে মারধর করিনি। উল্টো তিনি আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। হুমকি দেওয়ার কথা সত্য নয়।  

দেবগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। পরে শুনেছি। খোঁজ খবর নিয়ে বিস্তারিত জানাবো।  

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। শিক্ষকের ওপর হামলা হয়ে থাকলে ঘটনাটি দুঃখজনক।