১০ মার্চ ২০২৫, ১৩:১৩

জামা না কেনায় মার্কেটে দুই তরুণীকে ‘জিম্মি’

রাহি থ্রি পিছ অ্যান্ড বেবি ফ্যাশন, লক্ষ্মীপুর  © সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চকবাজার এলাকায় দামাদামি করার পর জামা কিনতে অস্বীকৃতি জানানোয় দুই কলেজছাত্রীকে ‘জিম্মি’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে দোকানি ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। রবিবার (৯ মার্চ) বিকেলে পৌর মসজিদ মার্কেটের নিচ তলা ‘লেডিস শপ ও রাহি থ্রি পিছ অ্যান্ড বেবি ফ্যাশনে’ এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই তরুণী লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পৌরসভার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী দুই তরুণী জানান, তারা লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পৌরসভার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার লেডিস শপ নামের দোকানে জামাকাপড় দেখতে যান। জামাকাপড় পছন্দ না হওয়ায় তারা দোকান থেকে বের হতে চাইলে দোকানি ও কর্মচারীরা তাদের জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে আটকে রাখেন এবং জামা কিনতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে দোকানি ও তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়।  তাদের মধ্যে একজন তার আত্মীয় বড়-ভাইকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে তিনি এসে মার্কেটের তৃতীয় তলা থেকে তাদের উদ্ধার করেন। 

এদিকে, দুই তরুণী মসজিদ মার্কেটে জিম্মি রাখার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান স্থানীয় সংবাদকর্মী সোলাইমান হোসেন নিশান। এ সময় দোকানি মামুনুর অর-রশিদ ও অপর দোকানদার ইয়াছিন আরাফাত তাকে হেনস্তা করেন। 

এ বিষয়ে নিশান জানান, নাজেহাল করার পাশাপাশি ওই দোকানিরা হুমকি দিয়ে বলেছেন, মসজিদ মার্কেটে পুলিশ-সাংবাদিক প্রবেশ করতে হলে তাদের অনুমতি নিতে হবে।

অভিযুক্ত লেডিস শপের স্বত্বাধিকারী ইয়াছিন আরাফাত বলেন, দুই তরুণীকে জিম্মি করে রাখা হয়নি। একটি জামার দাম নির্ধারণ করে তারা নিবে না বলে, তখন তাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে। এর বেশি কিছু হয়নি।

রাহি থ্রি পিছ অ্যান্ড বেবি ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মামুনুর অর-রশিদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক নিশানকে আমরা চিনতে পারেনি। সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিগগির বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে বণিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময় সভা হওয়ার কথা রয়েছে।