২২ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:২২

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ কল্যাণ ট্রাস্ট অফিস ঘেরাওয়ের হুমকি বিটিএ’র

  © টিডিসি ফটো

আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ফান্ডে বর্ধিত ৪ শতাংশ চাঁদার যে আদেশ করা হয়েছে তা বাতিল না করা হয় তাহলে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানি বন্ধ করে আমরণ অনশনের হুমকি দিয়েছে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠনের নেতারা।

এছাড়াও নেতারা ঘোষণা দিয়েছে তারা রাজধানীর পলাশীতে ব্যানবেইস ভবনে অবস্থিত অবসর সুবিধা কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস ঘেরাও করবে।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. কাওছার আলী শেখ।

সংগঠনটির অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে- দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের উদ্দেশ্যে আসন্ন ঈদের পূর্বেই সরকারি শিক্ষকদের মতো বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাড়িভাড়া প্রদান করতে হবে।

তবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধের আগে ৩০ এপ্রিল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীদেরকে স্বারকলিপি দেবেন শিক্ষকরা। একইদিনে সারাদেশের জেলা শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীদেরকে স্বারকলিপি দেবেন তারা।

এর আগে ২৫ এপ্রিল দেশের সব উপজেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীদেরকে স্মারকলিপি দেয়া হবে।

সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, শিক্ষক নেতাদের সাথে কোনরকম আলোচনা ছাড়াই চাঁদার হার বৃদ্ধি করা হয়। এতে শিক্ষকরা মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। এর আগেও কয়েকবার চাঁদা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করেও তা স্থগিত করা হয়।

অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের শত শত কোটি টাকা সীড মানি কোন ব্যাংকে কী সুদে থাকে তা জানার অধিকার সব শিক্ষকের থাকলেও তা জানা যায় না। গত ১৬ বছরে কোনও অনুসন্ধান, তদন্ত ও অডিট হয়নি। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যংক থেকে শত শত কোটি টাকা তুলে তা বেসরকারি ব্যাংকে রাখার অতিরিক্ত সুদের টাকা কাদের পকেটে যায়? অবসর ও কল্যাণের সব ব্যাংক হিসেব মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অডিট করানোর দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পেনশন পান না। অবসরে গেলে এককালীন কিছু টাকা পান অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে। এছাড়াও কিছু টাকা পান কল্যাণ ফান্ড থেকে। এই দুটি সুবিধা পেতে এমপিওভুক্ত পদে চাকরীকালীন পুরো সময়ের প্রতিমাসে মোট ৬ শতাংশ টাকা বেতন থেকে অবসর ও কল্যাণ ফান্ডের জন্য চাঁদা বাবদ কেটে রাখা হয়। সারাজীবনে যত টাকা চাঁদা হিসেবে দেন অবসরে গেলে তার প্রায় ১৪ গুণ বেশি টাকা পান। এই ৬ শতাংশ চাঁদার হার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আদেশে অবসর ও কল্যাণ ফান্ডের চাঁদার হার যথাক্রমে ৬ ও ৪ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ আগে ছিলো মোট ৬ শতাংশ যা বেড়ে ১০ শতাংশ হলো। চলতি এপ্রিল মাস থেকে এই বর্ধিত চাঁদা দিতে হবে। কিন্তু শিক্ষকরা তা দিতে চান না। তাদের যুক্তি বেশি চাঁদার জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা পাবেন না তারা।

অপরদিকে সরকারের যুক্তি চাঁদার হার বেশি দেয়া হলে অবসরে যাওয়ামাত্রই টাকা পাওয়া যাবে। ফান্ড সংকট থাকা অবসরে যাওয়া পর পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় অবসর সুবিধার টাকার জন্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিটিএ উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য রঞ্জিত কুমার সাহা, সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম, সহসভাপতি আলী আজগার হাওলাদার, বেগম নুরুন্নাহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু জামিল মোহাম্মদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, অর্থ সম্পাদক মোস্তফা জামান খান, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নিহার কান্তি বাছাড়, দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, গ্রন্থগার সম্পাদক অশোক কান্তি গুহ, সহদপ্তর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাহমিদা রহমান, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহানা বেগম।