১০ বছরে প্রশাসনে সাড়ে ৭ হাজার পদোন্নতি
সরকারের টানা ১০ বছরে জনপ্রশাসনে শীর্ষ চারটি পদে সাড়ে ৭ হাজার জনকে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব এবং গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৩ পর্যন্ত উল্লিখিত পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এ পদগুলোয় কর্মরতরা সরকারের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। সোমবার নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের করা এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফরহাদ হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ১৮৪ জনকে সচিব পদে, ১ হাজার ১৩০ জনকে অতিরিক্ত সচিব, ২ হাজার ৬ জনকে যুগ্ম সচিব, ২ হাজার ৩৭৩ জনকে উপসচিব এবং বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ১ হাজার ৯৬৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য ক্যাডারের গ্রেড-১ পদে ৯৩ জন, গ্রেড-২ পদে ৩৮৯ জন এবং গ্রেড-৩ পদে ১ হাজার ৫৪১ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৮-৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ২৪ হাজার ৩৯১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩৭ থেকে ৪০তম বিসিএসে আরো ১০ হাজার ক্যাডারের শূন্য পদ পূরণের প্রক্রিয়া চলমান আছে। এর বাইরে গত ১০ বছরে সরকারি বিভিন্ন দফতর ও সংস্থায় নিয়োগের জন্য ৫৮ হাজার ৩১০টি ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। পিএটিসির মাধ্যমে কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ জনকে বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ করিয়ে আনা হয়েছে।
ফরহাদ হোসেন বলেন, মাঠ প্রশাসনসহ প্রশাসনের সবস্তরের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়েরের মাধ্যমে লঘুদন্ড ও গুরুদন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালে বিভিন্ন দফতরের ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৮১ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন কর্মকর্তাকে গুরুদণ্ড, ১২ জনকে লঘুদণ্ড এবং ২২ জন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বাকি ৪৪ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন- দেশের কর্মচারীরা একটি দক্ষ, গতিশীল ও গণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।