কর্মসংস্থানে এগিয়ে স্বল্প শিক্ষিত নারীরা
চাকরি বা কর্মসংস্থানে অন্তর্ভূক্তির দিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিংবা উচ্চশিক্ষিত নারীদের চেয়ে এগিয়ে স্বল্প শিক্ষিত নারীরা। ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন এমন নারীদের কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। অথচ উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত নারীর কর্মসংস্থানের হার মাত্র ৪ শতাংশ। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার গুণগত মানের পরিবর্তনের ফলে অক্ষর জ্ঞানহীন নারীদের কর্মসংস্থান অভাবনিয় ভাবে কমেছে। যেটি ইতিবাচক। ২০০৫ সালে অক্ষর জ্ঞানহীন জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের হার ছিল ৫২ শতাংশ। পাঁচ বছরে তা সাড়ে ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪১ দশমিক ৩০ শতংশে দাঁড়ায়। ২০১৩ সালে তা আরো কমে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে আসে।
তবে কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতার কারণে নারীদের মধ্যে এখনো প্রাইমারি শিক্ষায় শিক্ষিত নারীরা কর্মসংস্থানের দিক থেকে এগিয়ে। বর্তমানে মোট কর্মজীবী নারীর ৩৪ দশমিক ৭০ শতাংশই এ যোগ্যতা সম্পন্ন। এর পরেই রয়েছে মাধ্যমিক যোগ্যতা সম্পন্ন নারীরা। কর্মজীবী নারীদের ২৯ দশমিক ৩০ শতাংশ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করা নারীদের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে কর্মসংস্থানে পিছিয়ে উচ্চ শিক্ষিত নারীর। বর্তমানে মোট কর্মজীবী নারীদের মধ্যে অনার্স ও মাস্টার্সের যোগ্যতা সম্পন্ন মাত্র ৪ শতাংশ কর্মসংস্থানে রয়েছেন।
তবে উচ্চ শিক্ষিত নারীদের কর্মসংস্থানের হার উর্ধ্বমূখী। ক্রমেই এসব নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০সালে উচ্চ শিক্ষিত নারীদের মাত্র ২ শতাংশ কর্মজীবী ছিলেন।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) প্রাথমিক শিক্ষায় বিভাগে বাংলাদেশ প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ কন্যা শিশু প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছে ৯৭ শতাংশ বালকও। অগ্রগতি ঘটেছে আত্ম সামাজিক ও জীবন পদ্ধতিতে। লিঙ্গ ভিত্তিক নারী-পুরুষের বৈষম্যও কমেছে অনেক। তবে কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, বন্ধুত্বপূর্ণ কর্ম পরিবেশ কম থাকায় শিক্ষিত নারীরা অনেক সময় কর্মজীবী হতে আগ্রহ পান না। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেও নারীরা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারছেন না। এছাড়া কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ এখনও ইতিবাচক নয়। কারিগরি শিক্ষায় যেসব ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়, তাদের মাত্র ২৮ শতাংশ মেয়ে।