১৩ আগস্ট ২০১৮, ১১:৩০

৪১তম বিশেষ বিসিএসে ২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক সঙ্কট মেটাতে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার  © ফাইল ফটো

সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।  ইতোমধ্যে দুই হাজার শিক্ষক নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, আলিয়া মাদরাসাসহ সরকারি কলেজের সংখ্যা ৩২৯টি।  এসব কলেজে মোট ১৬ হাজার ৫৫৪টি শিক্ষকের পদ রয়েছে।  এর মধ্যে অধ্যাপকের পদ ৫০৭টি, সহযোগী অধ্যাপক দুই হাজার ২২১টি, সহকারী অধ্যাপক চার হাজার ২৮৪টি এবং প্রভাষক পদে রয়েছে আট হাজার ২৬টি পদ।  দেশের ২১৫টি সরকারি কলেজে শিক্ষক সঙ্কট সবচেয়ে বেশি।  প্রায় চার হাজার শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে।  সবচেয়ে বেশি শূন্য প্রভাষক পদ। এ পদ শূন্য রয়েছে প্রায় দুই হাজার।  সরকারি কলেজে নিয়োগের জন্য পিএসসির মাধ্যমে প্রাপ্ত সুপারিশের সংখ্যা পর্যাপ্ত না হওয়ায় সৃষ্ট পদ থাকলেও শূন্য আসনে শিক্ষক নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।  এছাড়া প্রিতি বছরেই শিক্ষকদের একটি অংশ অবসরে যাচ্ছেন।  ফলে এসব পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, সরকারি কলেজ শিক্ষকের সংকট দূর করতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া আর কোনো সহজ উপায় নেই।  আমরা এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেছি।  সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়েছে।  সবাই একমত হয়েছে।  তার ভিত্তিতে জনপ্রশাসনে ২ হাজার প্রভাষক নিয়োগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।  দ্রুতই এটি পিএসসিতে পাঠানো হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামছুল হুদা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অনেক সরকারি কলেজে প্রভাষক পদে শিক্ষক সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না।  এ কারণে শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, সরকারি কলেজ উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হলেও সেখানে চরম শিক্ষক সঙ্কট বিদ্যমান।  বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমেই এ সঙ্কট নিরসন করা সম্ভব হবে।

শিক্ষা ক্যাডারের বিসিএস পরীক্ষা কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, ৩৮তম সাধারণ বিসিএসে’র লিখিত পরীক্ষা চলছে।  স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য আয়োজিত ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা শেষ হয়েছে।  বর্তমানে ফলাফল প্রকাশের কাজ শুরু হয়েছে।  ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার চাহিদা ক্যাডার পদের চাহিদা পাওয়া গেছে।  আগামী সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষা ক্যাডারে বিশেষ বিসিএসের আইন সংশোধন হলে ৪১তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা হতে পারে।

তবে এই বিশেষ বিসিএসের ক্ষেত্রে পিএসসির চলমান আইনে কিছুটা পরিবর্তন আসতে হবে।  এ আইন পরিবর্তনের জন্য খসড়া আকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।  সেখান খসড়া আইন চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।  এরপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা আয়োজন করতে পারবে পিএসসি।