০৭ আগস্ট ২০১৮, ১০:২৬

৬ বছর ধরে নিয়োগ বঞ্চিত শতাধিক প্রকৌশলী!

লগো

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক দুই চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বে ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়োগ বঞ্চিত রয়েছেন ১১১ জন সহকারী প্রকৌশলী। তারা বলছেন, সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে পিডিবি কর্তৃপক্ষ। শিগগির যদি নিয়োগ দেয়া না হয় তাহলে তারা আইনী সহায়তা নেবে।

সম্প্রতি পিডিবির চেয়ারম্যান বরাবর ভুক্তভোগীদের এক লিখিত অভিযোগে বিষয়টি জানা যায়। লিখিত অভিযোগে ১০ দিনের মধ্যে তাদের নিয়োগের অনুরোধ করেছেন তারা। 

অন্যদিকে পিডিবির বর্তমান নীতিনির্ধারকরা বলছে, বিষয়টি আগের হওয়াতে সে সর্ম্পতে তারা অবগত নয়।

লিখিত অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর ১১১ জন সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে পিডিবি। তখন পিডিবির চেয়ারম্যান ছিলেন এএসএম আলমগীর কবির। পরে ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধীনে লিখিত পরীক্ষা নেয় পিডিবি। লিখিত পরীক্ষায় ৩৭২ জন উর্ত্তীণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

এদের মধ্যে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের ২১৫ জন, যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের ১১৫ জন, কম্পিউটার বিভাগের ১৭ জন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ জন এবং আর্কিটেক্ট বিভাগের ৫ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের অধিকাংশই বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও ডুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী।

পরে ১৫ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এরপর ৬ বছরেও পিডিবি তাদের চুড়ান্ত ফল প্রকাশ করেনি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চুড়ান্ত ফল প্রকাশ বিলম্ব হওয়ায় প্রার্থীরা বিভিন্ন সময়ে পিডিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোন সুষ্পষ্ট জবাব দেয়নি। 

ভুক্তভাগীদের অভিযোগ, ২০১২ সালে যখন পিডিবির চেয়ারম্যান এএসএম  আলমগীর কবির ছিলেন তখন এ নিয়োগের লিখিত, মৌখিক ও একাডেমিক ফলের ভিত্তিতে মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

এরপর আলমগীর কবির অবসরে গেলে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান আব্দুল ওহাব খান। তিনি আসার পর নিয়োগকে পাশ কাটিয়ে নতুনভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সহকারী প্রকৌশলী পদে লোক নিয়োগ দিতে থাকে পিডিবি। 

২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৫ মার্চ সহকারী প্রকৌশলী পদে লোক নিয়োগে দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিডিবি কর্তৃপক্ষ। গত ২০ জুলাই এ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেয় পিডিবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগ বঞ্চিত একপ্রার্থী বলেন, ‘খুবই অন্যায়ভাবে আমাদের নিয়োগ না দিয়ে নতুনভাবে নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পিডিবি। এটা আমাদেরকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে পিডিবি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি আমরা পিডিবি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করে বিষয়টি জানিয়েছি। যদি কোন ব্যবস্থা না নেয়া তাহলে আমাদের আইনের আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।’ 

আরেক প্রার্থী জানান, ‘৬ বছর ধরে অপেক্ষা করতে করতে অনেকের চাকরীর বয়স চলে গেছে। কেউ কেউ অন্য কোথাও চাকরি করলেও অনেকেই বেকার রয়েছে। এ অবস্থার অবসান চায় তারা।’ 

পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়টি সর্ম্পকে আমি অবগত নয়। তবে পিডিবির সদস্যের (প্রশাসন) কাছে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি জানাতে পারবেন।’ 

পিডিবির সদস্য (প্রশাসন) মোঃ জহুরুল হক বলেন, ‘বিষয়টি সর্ম্পকে আমি অবগত নয়। ওই সময়তো আরেকজন দায়িত্বে ছিলেন। আমি আসার পর সর্বশেষ গত ২০ তারিখে এ পদের পরীক্ষা হয়েছে। ওই নিয়োগের বিষয়টি খোঁজ নিতে হবে।’