প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
দুই মাসেরও বেশি সময় আগে সরকারের পক্ষ থেকে কোটা বাতিলের যে ঘোষণা এসেছিল তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হওয়ায় শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করবে এ ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ অধিকার পরিষদ’।
মানববন্ধন-সমাবেশ নাকি লাগাতার কর্মসূচি-বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সেটি নির্ধারণ করবে পরিষদের নেতারা।
পরিষদের নেতারা বলেছেন, গত ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করতে এতোদিন লাগার কথা না। তাই আন্দোলন ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
ঈদের পরপরই প্রজ্ঞাপন জারি না হলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। চলতি মাসের শেষের দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঈদের ছুটি শেষ হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পরিষদের নেতারা আন্দোলনের দিন-তারিখ নির্ধারণ করবেন।
পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছেন তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হোক। সেটা আমরা আশা করি। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারি করতে এতো সময় দরকার হয় না। ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। যদি না হয় তাহলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে পরবর্তী কি করণীয় তা নির্ধারণ করবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিষদের এক যুগ্ম-আহ্বায়ক বলেন, দুই মাসেও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে আমাদের আর অপেক্ষার সময় নেই। রাজপথে না নামা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। ঈদের ছুটি শেষেই আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের এ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পরপরই আন্দোলনকারীরা শিগগিরই সেটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করার দাবি জানিয়ে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে।
এদিকে একমাস পরও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের ব্যানারে ১৪ মে ফের রাজধানীর শাহবাগে প্রায় ৬ ঘন্টা যাবত অবরোধ কর্মসূচিও পালন করছেন তারা। এরপর রমজান-ঈদের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তারা আর কোন কর্মসূচিও পালন করেনি। তবে ঈদের পরপরই প্রজ্ঞাপন জারি না হলে তারা ফের আন্দোলনে নামবে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কোটা রয়েছে ৫৬ শতাংশ। আর সাধারণ রয়েছে ৪৪ শতাংশ। সেটি ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশসহ ৫ দফা দাবিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাঝামাঝি সময়ে আন্দোলন শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা গড়ে তুলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি প্লাটর্ফমও। এর নেতৃত্বে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুরুর দিকে এ দাবিতে তারা মানববন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এপ্রিলের শুরুর দিকে তাদের আন্দোলন জোরদার হয়। এপ্রিলের প্রথম সাপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যায়। তাদের লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি বলেন, যেহেতু শিক্ষার্থীরা কোটা চাচ্ছেন না, সেহেতু কোটা থাকবে না। কোটা বাতিল।
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার দুই মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ফের আন্দোলনে নামা হবে।