১৫ মার্চ ২০১৯, ১৭:৫১

ক্রাইস্টচার্চ হামলা: নিহত ৩ বাংলাদেশীর মধ্যে একজন বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক

ইনসেটে অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সামাদ  © টিডিসি ফটো

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে গুলির ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও চার বাংলাদেশিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছ থেকে খবর পেয়েছেন তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে এই হামলার ঘটনায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হন; আহত আরও ৪৮ জন।

নিহত তিন বাংলাদেশির একজনের পরিচয় মিলেছে। তার নাম অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সামাদ। তার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্লা গ্রামে; তিনি মৃত জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক।

নিহত অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সামাদের ছোট ভাই ও নাগেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক এ কে এম শামসুদ্দিন বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা নিউজিল্যান্ড থেকে মেসেজ পেয়েছি যে, আমাদের ভাই ড. মো. আবদুস সামাদ বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে আমার ভাবি ও তাদের দুই ছেলে ভালো আছেন।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই ড. সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক ছিলেন। গত ৮-১০ বছর ধরে স্ত্রী ও দুই  ছেলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেয়ে সেখানেই বসবাস করছিলেন তিনি। তবে মাঝে মাঝে তিনি দেশে আসতেন।

নিহতের আরেক ছোট ভাই আব্দুল কাদেরের বরাত দিয়ে শামসুদ্দিন বলেন, আমার ছোট ভাই কাদেরের সঙ্গে আমার ভাবির কথা হয়েছে। তিনি ও তাদের দুই ছেলে ভালো আছেন। আমরা আরও খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান উদ্দিন ভুঞার জানিয়েছেন, ড. আবদুস সামাদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি গত বছর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮০ সালে অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এর আগে তিনি একবছর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে চাকরি করেছেন। চাকরিরত অবস্থায় ১৯৮৮ সালে তিনি নিউজিল্যান্ডের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ওই সময় নিউজিল্যান্ডেই তার দুই ছেলের জন্ম হয়।

কৃষিতত্ত্ব বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ, তার স্ত্রী ও ছেলেরা সবাই ধার্মিক। এভাবে সন্ত্রাসী হামলায় তিনি মারা যাবেন –এটা আমরা কেউ ভাবিনি।