৩১ আগস্ট ২০২২, ০০:১০

গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষায় অসঙ্গতি, নতুন মডেলের প্রস্তাব

ভর্তি পরীক্ষা  © টিডিসি ফটো

সব ধরনের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অসঙ্গতির অভিযোগ এনে একাই দাঁড়িয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন। সোমবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‍্যালের পাদদেশে দাড়িয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি গতানুগতিক গুচ্ছ পদ্ধতির বাইরে ভর্তি পরীক্ষায় নতুন একটি মডেলের প্রস্তাব করেছেন।

অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বলেন, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি একটি প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের পাবলিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা, কৃষি, সাধারণ ইত্যাদি) আসন সংখ্যা যেহেতু উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা শিক্ষার্থীর (প্রায় ১২/১৩ লাখ) তুলনায় খবই কম— তাই এসকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যোগ্যতা যাচাইয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আসন সংখ্যা সীমিত, সার্বিক বিষয়ে অধিকতর যোগ্যদেরই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। তাছাড়া তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে আবেগ, স্থিতিশীলতা/ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ ইত্যাদির মানদণ্ড যাচাইয়ের নিমিত্তে ভর্তি পরীক্ষা একটি প্রক্রিয়া। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই বিষয়গুলো অনেক সময় একত্রে ঘটে না। 

নিজের অবস্থানের বিষয়ে জানিয়ে অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বলেন, এক কথায় বলতে গেলে বিশেষায়িত সমরূপ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে (যেগুলোতে বৈচিত্রতা নাই যেমন মেডিক্যাল, প্রকৌশল ও কৃষি) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ভোগান্তির শাখায় বেশ খানিকটা সফল বলেই মনে হয়েছে। যদিও এই ভোগান্তির মূলে কোন ভূমিকা নেই। আর যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈচিত্রময় যেমন সাধারণ গুচ্ছ, এক্ষেত্রে গুচ্ছ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার কিছু দুর্বলতার কারণে কিছু বিক্ষোভ/অসন্তোষ ও জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: ওএমআর পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন ভর্তিচ্ছুরা

ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ভোগান্তির মূল উৎস কিভাবে নিরসন বা কমানো যায় সেখানে আমাদের পরিকল্পনা করে কার্য সম্পাদন করা। বাংলাদেশে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের আর্থিক ও যাতায়াত বা থাকার বিষয়ে অপচয় ও ভোগান্তির মূল উৎস হল— উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৫০ হাজার আসনের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করা ১২/১৩ লাখ শিক্ষার্থীকে মেস/বাসা ভাড়া করে থেকে কোচিং সেন্টারে উচ্চ ফি দিয়ে ৪/৫ মাস কোচিং।’

‘‘আমরা যদি Higher Education Entrance Examination (HEEE) নামে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য গ্রুপের জন্য আলাদা আলাদা) উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আয়োজন করে একটি ফলাফল প্রকাশ করতে পারি— এই ফলাফলে শর্তারোপ করা থাকবে যে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করলেই বা নির্দিষ্ট জিপিএ অর্জন করলেই কেবল এই ফলাফল প্রযোজ্য হবে। এই ফলাফলের ভিত্তিতে ৫০ হাজার আসনের জন্য প্রায় দেড় লাখ অধিকতর যোগ্য শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করি তাহলে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থীর কোচিং ভোগান্তির নিমিত্তে অভিভাবকের আর্থিক অপচয়সহ অন্যান্য ভোগান্তি কমিয়ে আনা সম্ভব।’’

এর আগে দেশে প্রথমবারের মত ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৭টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মত তিন সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। একই বছর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত। যা চলমান বছরগুলোতে কার্যকর রয়েছে।