ফল বিপর্যয়ের আশংকা, বি ইউনিটে পাশের শর্ত শিথিল
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ফল বিপর্যয়ের আশংকায় পাশের শর্ত শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর ইবির বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রণীত প্রশ্নের অধিকাংশই সিলেবাস বর্হিভূত বলে অভিযোগ করে পরীক্ষার্থীরা।পরীক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, সাধারণত ভর্তি পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে প্রশ্ন করা হয়েছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মানের। এতে করে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় ফেল করার আশংকা রয়েছে।এরই প্রেক্ষিতে এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাশের শর্ত শিথিল করে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা যায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৮০ নম্বরের মধ্যে সর্বনিম্ন ২১ নম্বর পেতে হবে। যেখানে এমসিকিউ-তে ৬০ নম্বরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৮ এবং লিখিত ২০ নম্বরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৩ নম্বর পেতে হবে।এছাড়া কোটার ক্ষেত্রে এমসিকিউতে পাশ নম্বর ধরা হয়েছে সর্বনিম্ন ১৬ এবং লিখিত পরীক্ষায় নুন্যতম ২।
পূর্বের নিয়মানুযায়ী, বি ইউনিটের পরীক্ষায় মোট ৮০ নম্বরের মধ্যে পাশের শর্ত ছিল সর্বনিম্ন ৩২ নম্বর।যেখানে লিখিত পরীক্ষায় ২০ নম্বররের মধ্যে সর্বনিম্ন ৭ নম্বর পেতে হতো।
ইউনিট সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ভর্তি পরীক্ষায় যে পাশের শর্ত দেওয়া হয়েছিল সে অনুযায়ী ‘বি’ ইউনিটের মোট আসন সংখ্যাও পূর্ন হচ্ছে না। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘বি’ ইউনিটের পাশের শর্ত শিথিল করেছে। যাতে আসন সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষার্থী পাওয়া যায়।
এদিকে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাশের শর্ত শিথিল করার বিষয়কে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। তারা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা বিবেচনা করে প্রশ্নপত্র প্রনয়ণের কথা থাকলেও শিক্ষকরা নিজেদের যোগ্যতা প্রকাশের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা না করে প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এতে ভর্তি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় হয়েছে। ফলে আসনের সমসংখ্যক শিক্ষার্থী খুঁজে পেতে ভর্তির শর্ত শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষায় আমার দেখা প্রায় ১৬০টি উত্তরপত্রে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পাশ নম্বর ৭ (সাত) পেয়েছে। অন্যান্যদের ক্ষেত্রে হয়তো একই অবস্থা। আসলে প্রশ্ন করার সময় ইউনিট সমন্বয়কারীদের আরো গভীরভাবে ভাবা উচিৎ ছিল, যে প্রশ্ন করা হয়েছে সেটা শিক্ষার্থীদের অনুকূলে কি না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র একটু বেশি কঠিন হয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত পরিমাণে শিক্ষার্থী না পাওয়ায় আমরা কিছুটা শর্ত শিথিল করেছি। যাতে করে কোনো আসন ফাকা না থাকে।’