হিন্দু সহকর্মীর শেষকৃত্য পালন করলেন মুসলিম শিক্ষক
ধুতি টুপির বিভেদ ছাপিয়ে গেছে সহকর্মী শিক্ষকের প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধা। ধর্মীয় বাধার দেয়াল ভেঙে হিন্দু সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধার এমন নমুনা দেখিয়েছেন জলপাইগুড়ির এক মুসলিম শিক্ষক। আসফাক নামের ওই শিক্ষক তার হিন্দু সহকর্মীর শেষকৃত্য করেছেন। পালন করেছেন ১১দিনের অশৌচ।
চলতি বছরের নভেম্বরের শেষে মারা যান জলপাইগুড়ির বানারঘাট হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক সঞ্জনকুমার বিশ্বাস। তাঁর মৃত্যুতে ভীষণ ভাবে মর্মাহত হন আসফাক। কারণ স্কুলে শিক্ষকতা শুরু প্রথমদিন থেকেই সঞ্জন কুমার আসফাকের পাশে থেকেছেন। দেশের সব জায়গায় যখন হিন্দু মুসলিম বিরোধ তুঙ্গে তখন আসফাককে টেনে নিয়েছেন বন্ধুত্বের ছায়ায়। তাইতো প্রিয় সহকর্মীর মৃত্যুতে শুধুমাত্র প্রণাম করে আর ছবিতে ফুলের মালা পরিয়েই ক্ষান্ত হননি। হিন্দু রীতি মেনে মুড়িয়েছেন মাথা। করেছেন শেষকৃত্য। স্ত্রী এবং ন’বছরের ছেলেকে নিয়ে পালন করেন ১১ দিনের অশৌচও। এমনকি পুরোহিত ডেকে জলঢাকা নদীর ধারে ক্রিয়াকর্মও সম্পন্ন করেন। মুর্শিদাবাদের বাড়িতে থাকা তাঁর বাবা-মা এই কাজে কোনও ভাবেই তাকে বাধা দেননি।
আসফাক বলেন, ‘‘যে বছর চাকরিতে ঢুকি, সে বছর স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী বছর ছিল। ভিন্নধর্মী হওয়ায় অনেকেই আমার নিয়োগে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু সঞ্জনবাবু ও তাঁর পরিবার বরাবর আমার পাশে থেকেছেন। কু’কথা কানে তুলতে নিষেধ করেছিলেন উনি। নিজের বাড়িতে জায়গাও করে দিয়েছিলেন। শিখিয়েছিলেন ধর্মের চেয়ে মানুষ বড়।’’ তিনি আরও বলেন, তার প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকেই শেষকৃত্য পালন করেছি। তবে শুধুই দায়বদ্ধতা নয়, এই সম্মানটুকু তাঁর প্রাপ্য ছিল।’’