১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩:৪৩

জাবিতে নারী শিক্ষার্থীর গাড়িতে ছাত্রলীগের ভাঙচুর

জাবিতে নারী শিক্ষার্থীর গাড়িতে ছাত্রলীগের ভাঙচুর  © টিডিসি ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের (উইকেন্ড) সাবেক এক নারী শিক্ষার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলক ফটক (ডেইরি গেইটে) এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাবরিনা সিদ্দিকী অদিতি, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ রহমান খান, নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী দীপ বিশ্বাস ও তাদের কয়েকজন অনুসারী।

পড়ুন: রাকসুর দাবিতে এক কাতারে রাবির সব ছাত্রসংগঠন

ভুক্তভোগীর বর্ণনায় জানা গেছে, অভিযুক্ত আসিফ ও দীপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং হলের সভাপতির পর্ষদের ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। ঘটনার সময় আসিফ দীপকে ফোন দিয়ে ডেকে নেয়। দীপ বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের জুনিয়রদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে তারা গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। গাড়ির ড্রাইভারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের এক কোণে নিয়ে হেনস্তা করেন বলেও জানা যায়।

পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রক্টরিয়াল বডি ইংরেজি বিভাগের কনফারেন্স রুমে দুই পক্ষকে নিয়ে বসেন। এসময় উভয়পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন।

পড়ুন: মানুষ প্রধানমন্ত্রীর শপথ বর্জন করেছে: নুর

ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী বলেন, “সনদপত্র উত্তোলনের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় ডেইরি গেইটে গাড়ির ড্রাইভার হর্ন বাজান। শিক্ষার্থীদের পাশ কাটিয়ে গাড়িটি সামনে গেলে পেছন থেকে এক শিক্ষার্থী সামনের গ্লাসে হাত দিয়ে আঘাত করলে ড্রাইভার গাড়ি থামান। গাড়ি থামালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড দেখতে চান এবং মা সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় গালি দেন।

তিনি আরও বলেন, সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিলে তারা আরও ক্ষেপে যায়। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কর্মকর্তারা নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে আমি এবং আমার মা গাড়ি থেকে বের হই। তখন তারা বারবার ক্ষমা চাইতে বলে। এরই মধ্যে তারা ও তাদের সহপাঠীরা গাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে দেয়।”

পড়ুন: স্নাতকোত্তর ও পিএইচডিতে স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

অভিযুক্ত সাবরিনা সিদ্দিকী অদিতি বলেন, “বন্ধুদের নিয়ে ডেইরি গেইটে ছিলাম। এসময় একটি গাড়ি আমাদের গাঁ ঘেষে চলে যায়। তখন আসিফ ভাই গাড়িটি থামায়। গায়ে ঘেষে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন। তখন গাড়ির ড্রাইভার ও ভেতরে থাকা মহিলা আমাদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে ওই মহিলা অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। গাড়িতে থাকা মেয়েটি ইংরেজি বিভাগে আমাদের ডেকে নেওয়ার হুমকি দেয়। মেয়েটি গাড়ি থেকে নামলে ক্ষমা চাওয়ার অজুহাতে আমার হাত চেপে ধরেন। তখন আমার চুড়ি ভেঙে হাত কেটে যায়। এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের গাড়িতে ভাঙচুর করেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসিফ রহমান খানও একই বর্ণনা দেন। তবে অপর অভিযুক্ত দীপ বিশ্বাস বলেন, আমি গাড়ি ভাঙচুরের সময় ছিলাম না। তবে ঘটনার পর বন্ধু আসিফ আমাকে ফোন দেয়। তখন আমি প্রক্টরিয়াল বডি উভয়পক্ষের অভিযোগ শুনতে ছিলেন সেখানে যাই।

ঘটনায় উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বলেন, ঘটনা জানা পর আমি ও রাসেল মিঞা স্বাধীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। গাড়িতে থাকা দুইজনকে নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা গাড়ি থেকে নেমে আসে। তখন উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাদের গাড়ি ভাঙতে শুরু করে। আমরা কয়েকজন থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিনি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ফিরোজ-উল-হাসান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমরা বসেছিলাম। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।