আবরার হত্যার রায়ের প্রতিক্রিয়া

দ্বীপ-সনি হত্যার বিচারের দাবিতে ফেসবুকে সরব ছাত্রলীগ

ছাত্রলীগের লোগো দ্বীপ ও সনি
ছাত্রলীগের লোগো দ্বীপ ও সনি  © ফাইল ফটো

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এদিকে আবরার হত্যা মামলার রায়কে মিডিয়া ও পাবলিক ট্রায়াল বলে দাবি করেছেনে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। রায় ঘোষণার পর থেকেই বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দ্বীপ ও শিক্ষার্থী সনি হত্যার বিচার দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন তারা। 

তারা বলছেন, একজনের মৃত্যুতে ২০ জনর ফাঁসি, ৫ জনের যাবজ্জীবন ঠিক কতটুকু ন্যায়সঙ্গত তা ভাবার বিষয়।তবে আবরারের মামলার রায় নিয়ে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

আবরার হত্যাকাণ্ডের সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন গোলাম রাব্বানী। রায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আবরার হত্যা মামলার রায়- এই মামলার রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে মিডিয়া ও পাবলিক ট্রায়ালের চরম নেতিবাচক প্রভাব, প্রি-ডিটারমিনেশন ছাড়া সাডেন প্রভোকেশনে একজনের মৃত্যুতে ২০ জনর ফাঁসি, ৫ জনের যাবজ্জীবন ঠিক কতটুকু ন্যায়সঙ্গত, আসামী পক্ষের আইনজীবীদের কোন যুক্ততর্ক আমলে না নেয়ার অভিযোগ প্রভৃতি নানা 'প্রাসঙ্গিক কিন্তু উপেক্ষিত বিচার্য বিষয়' মহামান্য হাইকোর্ট আসামী পক্ষের আপীল পরবর্তী শুনানিতে নিশ্চয়ই সেগুলো আমলে নিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।’’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি সোহান খান লিখেছেন, ‘বুয়েটের সাবেকুন নাহার সনি, দ্বীপ, ফারুকরা মরে নি কারো হাতে। তাই তাদের কেউ মনে রাখেনি।

ডাকসুর সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতা আসিফ তালুকদার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, আরিফ রায়হান দ্বীপ, সাবেকুন নাহার সনি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারুক ছাত্রলীগ করতো। তাই তাদের হত্যার ন্যায় বিচার তাদের পরিবার দেখে যেতে পারলো না।’

ডাকসুর সাবেক সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতা রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য লিখেছেন, রায়ে মিডিয়া ট্রায়ালের প্রভাব স্পষ্ট এবং পক্ষপাত দুষ্ট।’

ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা লিখেছেন, ‘বুয়েটের ছাত্র আবরারের পরিবার সম্পর্কে আমি জানি না। তারা কতেটা মহৎ তাও জানা নাই। আবরারের পরিরার ফাঁসির আদেশকৃত ২০ জন বুয়েটের ছাত্রকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে ক্ষমা করে দিলে এটা হবে সবচেয়ে মহৎ কাজ।’

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ওই দিনগত রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।


সর্বশেষ সংবাদ