শিক্ষকের ভুলে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত

লগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়
লগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়  © সংগৃহীত

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিকে এসে স্কুলের শিক্ষকদের ভুলে দুইজন পরীক্ষার্থী আর পরীক্ষা দিতে পারছে না। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে।এই ঘটনায় ঐ দুই শিক্ষার্থীর জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থী দুজন হল, মূলগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী ইমন আহম্মেদ ও একই বিদ্যালয়ের একই বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ইমন আহম্মেদ বলেন, ‘চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় মূলগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহন করি আমি ও আমার বন্ধু আরাফাত। ইতিমধ্যে আমরা ৬টি পরীক্ষা সুন্দরভাবে অংশগ্রহন করেছি। আমাদের চতুর্থ বিষয় (ঐচ্ছিক) ছিল উচ্চতর গণিত। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী এই বিষয়ে পরীক্ষা আগামী ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখেজ উদ্দিন আমাদের ফোন করে বলেন, আজ অনুষ্ঠিতব্য কৃষি শিক্ষা পরীক্ষায় কেন অংশগ্রহন করলাম না। তখন আমি স্যারকে বললাম এই সাবজেক্ট তো আমাদের নেই। আমাদের উচ্চতর গণিত রয়েছে, সে পরীক্ষা আগামী ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। স্যার বললেন, তোমাদের উচ্চতর গণিত নয়, তোমাদের চতুর্থ বিষয় ছিল কৃষি শিক্ষা। স্যারের কথা শুনে আমরা দুজন তো হতবাক। স্কুলে আমাদের বই দেওয়া, ক্লাসসহ সব কিছুই হলো উচ্চতর গণিতে। তাহলে কৃষি শিক্ষা সাবজেক্ট কি করে এলো বুঝতে পারছি না।

এরপর আমরা দুইজন স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি জানান, ভুল নাকি আমাদেরই হয়েছে। তবে এটা সংশোধন করা যাবে। এজন্য কিছু টাকা খরচ হবে। জরুরিভাবে বোর্ডে গিয়ে এটি সংশোধন করার চেষ্টা করবো। আর আগামী ১ তারিখে তোমাদের নির্ধারিত উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় তোমরা অংশগ্রহন করতে পারবে।

এ বিষয়ে মূলগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আখেজ উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থী দুজন চতুর্থ বিষয়ে প্রথমে কৃষি শিক্ষাই দিয়েছিল। পরে তারা উচ্চতর গণিতের কথা বলেছে। কিন্তু তারা তাদের কাগজপত্র সংশোধন করেনি। এ ভুল ওই শিক্ষার্থীদের। তারপরও আমি তাদের বিষয়টি সংশোধনের জন্য আজ (সোমবার) রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে যাচ্ছি। দেখি কিছু করা যায় কি না। ’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মগরেব আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। আপনার মাধ্যমে জানলাম। প্রতিষ্ঠান প্রধানের সঙ্গে কথা বলে দেখি কি সমস্যা। আর এটার জন্য শিক্ষার্থীরা তো দায়ী হতে পারে না। তারা যদি চতুর্থ বিষয় পছন্দ হিসেবে উচ্চতর গণিত দিয়ে থাকে, সেখানে রেজিষ্ট্রেশনে কৃষি শিক্ষা আসবে কেন? বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি। ’


সর্বশেষ সংবাদ