একজন নেত্রীর কাছে আপনারা আর কি কি প্রত্যাশা করেন...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের সময় নেতাকর্মীদের নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিলোত্তমা শিকদার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের সময় নেতাকর্মীদের নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিলোত্তমা শিকদার  © সংগৃহীত

তিলোত্তমা শিকদার, আমাদের বোন, সহযোদ্ধা, মিছিলের সাহসী সারথি। আমি নিজে তাকে চিনি, যখন সে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রলীগের মিছিলে মধুর ক্যান্টিনে আসে। এরপরে পর্যায়ক্রমে তিলোত্তমা কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন শেষে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেছে।

ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন পরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল থেকে, ছাত্র-ছাত্রীদের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি উত্থাপন এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে রেখেছে অনবদ্য ভূমিকা।

সে শুধু ছাত্র রাজনীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছে তা নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করে সারা বাংলাদেশে মেয়েদের কাছে হয়েছে রোল মডেল এবং এসব কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার থেকে পেয়েছে সম্মানসূচক ‘শেখ হাসিনা ইয়ূথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২০’।

কথায় আছে ‘যে রাধে সে চুলও বাঁধে’। এতো সব কাজের পাশাপাশি আমাদের বোন তিলোত্তমা শিকদার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে হাজার দর্শকের মন জয় করেছে ইতিমধ্যে। একজন ছাত্রলীগ কর্মীর কাছে আপনারা আর কি কি প্রত্যাশা করেন, যা তিলোত্তমা ইতিমধ্যেই করে দেখায় নাই।

গতকালকে থেকে দেখতেছি, বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন পেজে এবং তাদের অনলাইন এক্টিভিস্টরা আমাদের বোনকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে, কেন? কি তার অপরাধ!

আরও পড়ুন: করোনায় ঢাবি ছাত্রীদের সহযোগিতায় তিলোত্তমা শিকদার

খেয়াল করে দেখবেন আমাদের বোন ছেলেটাকে সেইভ করে রিক্সায় উঠায় দিতে তার এক সহকর্মীকে অনুরোধ করতেছে, এবং ওই কর্মীকে যেন আঘাত করা না হয় সেজন্য আশেপাশের সহযোদ্ধাদের অনুরোধ ও নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এখন আসি, আমাদের অনলাইন এক্টিভিস্ট ও কিছু ভুঁইফোড় দালালদের বিষয়ে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত কিছু অনলাইন এক্টিভিস্টদের আমি চিনি ও জানি যারা সবসময় ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজে ব্যস্ত’। এরা কখনো দল এবং সরকার থেকে তেমন কোন সাপোর্ট পেয়েছে বলে এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নায়।

কিন্তু আর এক দালাল শ্রেণীর অনলাইন এক্টিভিস্ট আছে, যারা নিজেদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক্টিভিস্ট দাবি করলেও বিভিন্ন গুজব প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, এবং তাদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভাইবাদের প্রেতাত্মা’।

কারণ তারা একটা বিশেষ শ্রেণীর হয়ে সবধরনের অনলাইন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এজন্য তারা প্রতিনিয়ত মাসোহারা পেয়ে থাকেন এবং আমরা এটাও জানি তারা বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে সরব না থাকলেও আমাদের আওয়ামী লীগের ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের আইডি হ্যাক, পেজ গায়েব করা থেকে অনেক কিছু করে তাদের প্রভুদের মন জয় করেছেন বলে ইতিমধ্যেই আমাদের রাডারে ধরা পড়েছে।

অনেক হয়েছে, এখন দরকার সম্মিলিত প্রতিরোধ। আমরা বলতেছি না যে আপনারা ভাইদের গুনগান গায়বেন না। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডগুলোও প্রতিরোধ করতে ভূমিকা রাখবেন প্রত্যাশা করি।

আর তিলোত্তমা বোন, নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে জয় বাংলার শ্লোগান ধরে তুমি এগিয়ে যাবে দৃপ্ত পায়ে তপ্ত রাজপথে। বিএনপি-জামায়াতের গুজব প্রতিরোধে তোমার হাজার হাজার ভাই-বোন পাশে থেকে তোমার সাথে কন্ঠ মিলাবে, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে রাজপথে শ্লোগান দেবে, কখনো গোধূলি লগ্নে টিএসসির আড্ডায় চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলবে, আমরা তো আছি, ভয় কি বন্ধু, জেগে উঠো পদাতিক,
ছাত্রলীগ জয় জয় ছাত্রলীগ।

অথবা টিএসসির সবুজ চত্বরে কোরাসে গেয়ে উঠবে, তিলোত্তমা তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি শত ভাই। তিলোত্তমা তুমি সাহস ও শক্তির প্রতীক হয়ে আবির্ভুত হয়েছো রাজপথেকে তোমাকে রোধে!
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। [ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]

লেখক: সদস্য, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ


সর্বশেষ সংবাদ