শিক্ষামন্ত্রীর অনুষ্ঠানে লোডশেডিং, ‘স্মার্ট’ বলে শিক্ষার্থীদের হাততালি

বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি
বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি  © টিডিসি ফটো

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে কয়েক ধাপের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ জুন) বিকেলে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এদিকে অনুষ্ঠানে পুরষ্কার বিতরণ পর্ব শুরু হওয়ার একটু আগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিদ্যুৎ চলে যায়। সে সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীসহ, শতশত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথিরা মিলনায়তনের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের অনেকেই হাততালি দিতে শুরু করেন। এসময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ‘স্মার্ট’ বলতেও শোনা গেছে।

পরে পুরষ্কার বিতরণ শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই দেশটাকে একটা ডিজিটাল বাংলাদেশ করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। যাতে আমাদের নূতন প্রজন্ম যেন পৃথিবীটা এখন যেইদিকে এগুচ্ছে, বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির দিকে, তারা যেন সেই দক্ষতা অর্জন করে যোগ্য, দক্ষ, সৃজনশীল, মানবিক মানুষ এবং বিশ্ব নাগরিক হতে পারে। সে চেষ্টার অংশ হিসেবে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছি। এখন তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছেন স্মার্ট বাংলাদেশের। 

শিক্ষার্থীদের হাততালির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটু আগে যখন হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলো, আমি হঠাৎ হঠাৎ শুনলাম, অডিটোরিয়ামের এদিক-ওদিক থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরাই হয়তো দু'চারজন বললেন 'স্মার্ট'। তো। একটু যখন আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বলেছিলাম তখন আমাদের অনেক ঠাট্টা তামাশা শুনতে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলেই বলতো এইযে ডিজিটাল বিদ্যুৎ। কোনো কিছুর সমস্যা হলেই বলতো এইযে ডিজিটাল। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবতা।"

এসময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, উপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থা স্বাধীন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত ছিল না। জাতিরপিতা বলেছিলেন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না করার ফলে আমরা এখনো উপনিবেশিক শিক্ষা নিয়ে আছি। এতদিন সেই শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়েই চলেছি। জাতিরপিতাকে হত্যার পরে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনটি তারা করেনি। ফলে আমরা অনেক গুলো বছর গতানুগতিক ধারার সে মুখস্থবিদ্যা দিয়েই চলেছি। 

শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জীবনের সবকিছুই আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িত। আগামীর বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। শুধু বিদেশি ভাষায় কথা বললেই স্মার্ট নাগরিক হওয়া যায় না। সেই স্মার্ট নাগরিক যে সৎ, মানবিক, সৃজনশীল ও যার পরমত সহনশীলতার সক্ষমতা আছে। এ ক্ষেত্রে নিজের ভাষা, সাহিত্যকে জানতে হবে। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। আমাদের পাশের দেশ থেকে পালিয়ে আসা অজস্র নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছি। এমন উদাহরণ বিরল। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী হোক সৎ ও মানবিক।


সর্বশেষ সংবাদ