ব্যান্ডেজ পরে রাবিতে প্রক্সি দিতে এসেই ধরা মেডিকেল শিক্ষক

ব্যান্ডেজ পরে রাবিতে প্রক্সি দিতে এসেই ধরা মেডিকেল শিক্ষক
ডা. সমীর রায়  © সংগৃহীত

ডা. সমীর রায়। খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের প্রভাষক। খুলনা মেডিকেল কলেজের কে-২০ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী মাথায় ও হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে রোগী সেজে আসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষার হলে। তা দেখে সন্দেহ করেন হলের দায়িত্বরত শিক্ষকরা। পরবর্তীতে আটক করা হয় তাকে।

এরপর জিজ্ঞাসাবাদে ডা. সমীর জানায়, অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে আসেন তিনি। পরে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ৪র্থ শিফটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় গাজী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নুরসারাত আহমেদ বলেন, কেউ শিক্ষকতার বাইরে কি করে বেড়ায় সেটা আমরা জানি না। এটা তার ব্যক্তিগত অপরাধ। আমরা যাচাই-বাছাই করে তাকে বহিষ্কার করব।

জানা যায়, ডা. সমীর ভর্তি পরীক্ষায় রোল ৮৪৬৪৮-এর পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহাত আমীন রিয়াদের পরিবর্তে শেখ রাসেল মডেল স্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে দেখে সন্দেহ করেন পরীক্ষার হলের দায়িত্বরতরা। তার মাথায় ব্যান্ডেজ এবং হাতে ব্যান্ডেজ দেখে সন্দেহ করেন তারা। পরবর্তীতে পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা তাকে আটক করেন। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্র প্রক্সি দেওয়ার তাকেসহ (সমীর) চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সবাইকে এক বছরের কারদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এর আগে, প্রক্সি দেওয়ার দায়ে আটক করা হয় এখলাসুর রহমান, মো. বায়োজিত এবং জান্নাতুল মেহজাবিন নামের তিন শিক্ষার্থীকে। এদের মধ্যে এখলাসুর ও জান্নাতুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বায়েজিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

আটকের পর তাদেরকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ। পরে তাদেরকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।


x