বাকৃবি

ডিগ্রি’র দাবিতে আন্দোলন, দেড় মাসেও ক্লাসে ফেরেনি শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা
আন্দোলনে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দেড় মাস ধরে সমন্বিত বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। গত ৫ জুন ভেটেরিনারি অনুষদ এবং ৭ জুন পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে আসছে। ফলে অনুষদ দুটির সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

দাবি আদায়ে অনড় দুই অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এদিকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখায় শিক্ষার্থীরা দেড় মাস পিছিয়ে পড়েছে। তবে এখনো সমাধানের পথে যেতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০ মে প্রকাশিত সরকারি চাকরি সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনকে ঘিরে শুরু হয় এই আন্দোলন। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নন ক্যাডার কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালার কয়েকটি পদে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রিকে অন্তর্ভুক্ত না করে সমন্বিত ডিগ্রিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে ওই পদগুলোর বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন না ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

ভেটেরিনারি অনুষদ ছাত্র সমিতির সহ-সভাপতি মো. শাহরিয়ার খন্দকার বলেন, আমাদের দাবি যৌক্তিক। সমন্বিত ডিগ্রি চালু না করা পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরতে নারাজ। শিক্ষকেরা চাচ্ছেন যে আমরা ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করি। আমরা দাবি আদায় করে তবেই ক্লাসে ফিরব।

আরও পড়ুন: টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশে ৩য় বাকৃবি

পশুপালন অনুষদ ছাত্র সমিতির সহসভাপতি রেজোয়ান-উল-আমিন বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল জানান, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে আসুক। মূলত চাকরি নিয়ে শঙ্কিত থাকার কারণেই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছাজেদা আখতার জানান, তাঁদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে আমরা শিক্ষকেরা তাদের পাশে আছি। কিন্তু তাদের ভালোর জন্য ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, আন্দোলন যত আগাবে সেশনজট তত বাড়বে। ইতোমধ্যে তারা দেড়মাসের মতো পিছিয়ে গিয়েছে। সেশনজটের ব্যাপারে অনুষদের ডিনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির কোনো সমাধান আমার কাছে নাই। আমি শিক্ষার্থীদের কাছে সময় চেয়েছি। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভাব করার চেষ্টা করব।


সর্বশেষ সংবাদ