কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: শেষ দশ দিনে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

কৃষি গুচ্ছ
কৃষি গুচ্ছ  © সংগৃহীত

আর মাত্র ১০ দিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কৃষি গুচ্ছভুক্ত নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। এই সময়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মনে যেমন একদিকে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পাওয়ার আশা জাগছে, তেমনি অন্যদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও কাজ করছে প্রবলভাবে। স্বপ্ন যেন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

তাই, এই শেষ ১০ দিনে কীভাবে পড়াশোনা করলে সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া সম্ভব কিংবা কোন কৌশল অনুসরণ করলে সাফল্যের সম্ভাবনা আরও বাড়বে—এসব বিষয়ে জানতে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে কথা হয়েছে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করা জাইমুন ইসলামের সঙ্গে। তার অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও প্রস্তুতির কৌশলই হতে পারে এবারের কৃষিগুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য শেষ মুহূর্তে দিকনির্দেশক এক আলোকবর্তিকা।

শেষ দশ দিনে কীভাবে পরিকল্পনা করা উচিত এ নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জাইমুন বলেন, ‘পরীক্ষার আগ মুহূর্তগুলোতে আমরা সবাই কমবেশি মানসিক চাপে ভুগি। অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়—মনে হয়, সব অধ্যায় শেষ করতে পারিনি, মডেল প্রশ্নগুলোও ভালোভাবে সমাধান করতে পারছি না। ইংরেজি বাদে ৪টি বিষয়ে মোট ৪৮টি অধ্যায় রয়েছে। যখন ভাবি ইংরেজিসহ সবগুলো অধ্যায় শেষ করে মডেল প্রশ্ন সমাধান করবো, তখন দেখি, সময়ের স্বল্পতা ও মনে না থাকার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ, দশ দিন আগে পড়া কোনো অধ্যায়ের ৫০% মনে থাকে, আবার ৫০% ভুলে যাই। তাই, দশ দিন আগে থেকেই এক ঘণ্টা সময় ধরে মডেল প্রশ্ন পরীক্ষার মতো সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত নয়, এটা করা উচিত পরীক্ষার কেবল তিন-চার দিন আগে।’

‘এখন প্রশ্ন হলো, এই দশদিন আগে মডেল প্রশ্নগুলো কীভাবে সমাধান করব? আমি বলবো, প্রয়োজন হলে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগুক। কিন্তু প্রতিটি প্রশ্নের টপিক পুরোপুরি বুঝে নিতে হবে। ৫-১০ মিনিট বেশি লাগলেও সমস্যা নেই, তবে নিশ্চিত হতে হবে যে টপিকটি ভালোভাবে শেষ হয়েছে। ধরো, ১০০টি প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। এর মধ্যে কিছু প্রশ্নের টপিক পড়তে হবে, কিছু পড়তে হবে না। এভাবে সব প্রশ্নের সমাধান করতে ৪-৫ ঘণ্টা লেগে যাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। এভাবে প্রতিদিন ৩-৪টি প্রশ্নের সব টপিক বুঝে পুরোপুরি শেষ করার চেষ্টা করো। কয়েকদিন পর দেখবে, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, বায়োলজি ও ইংরেজিসহ সব বিষয় সম্পর্কে তোমার একটি ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে।’

‘এই পদ্ধতিতে পড়লে একইসঙ্গে সব বই পড়া হবে, আর যে টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন আসে সেগুলোও ভালোভাবে অনুশীলন করা হয়ে যাবে। এভাবে ৫-৬ দিন অনুশীলন করলে তোমার মনে হবে, সত্যিই সবগুলো অধ্যায় ভালোভাবে পড়া হয়ে গেছে। আমি মনে করি, এই পরিকল্পনার মধ্যেই রিভিশনটাও নিয়ে আসা উচিত। কারণ, সব অধ্যায় শেষ করে মডেল প্রশ্ন সমাধান করা উচিত নয়, কারণ কোন কিছুই দীর্ঘদিন মনে থাকে না।’

পরীক্ষার দিনের প্রস্তুতি নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জাইমুন বলেন, ‘পরীক্ষার হলে বসে কোনোভাবেই মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না। “আমার পজিশন ভালো হতে হবে, বাকৃবিতে চান্স পেতে হবে, ভালো সাবজেক্ট পেতে হবে” —এ ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ, অতিরিক্ত চাপ থাকলে প্রশ্নের প্রতি মনোযোগ নষ্ট হয় এবং সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতেও সমস্যা হয়। তাই, স্ট্রেস দূরে রাখতে হবে। সব ধরনের পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক চাপ ভুলে যেতে হবে। শুধু একটি বিশ্বাস রাখো—“আমি ইনশাআল্লাহ একটি সিট পাবো।’’ সব ভর্তিচ্ছুদের জন্য রইলো শুভকামনা।’


সর্বশেষ সংবাদ