‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইয়ুব আমলের আইনে চলছে’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও তিন শিক্ষককে বরখাস্ত-অপসারণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও তিন শিক্ষককে বরখাস্ত-অপসারণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন  © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশে চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত অন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের সামরিক শাসক ফিল্ড- মার্শাল আইয়ুব খানের আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে এক মানবন্ধননে এ অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘চারটি স্বায়ত্ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত সকল বিশ্ববিদ্যালয় আইয়ুব আমলের আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তাই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশ্ববিদ্যালয়সুলভ হতে হবে। যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসবে।’

জাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায্য দাবির পক্ষে দাঁড়ানোর ফলে শিক্ষক-শিক্ষর্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। উপাচার্যরা চান না কেউ মুক্তচিন্তার করুক, সৃজনশীল চিন্তা করুক। তারা চান না অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো মেরুদন্ড থাকুক। তারা চান এমন শিক্ষক যারা শিক্ষাচর্চার সাথে থাকবে না, বরং তাদের অনুগত হবে।

‘কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্ত এলাকা। সমাজকে অগ্রসর করানোর জন্য এখানে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, রাজনৈতিক চিন্তা, বিতর্ক, মত প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সমাজ একটা দিশা পায়। সে দিশাটা তৈরি করে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।’

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায় পুলিশ, আমলা, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার শ্রেনীর লোকদেরকে প্রশাসনে বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি রোবটে পরিণত করতে। তারা চায় না কেউ মুক্ত চিন্তা, সৃজনশীল চিন্তা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুক। তারা চায় এমন শিক্ষক, যারা শিক্ষাচর্চার সাথে থাকবে না, তারা হবে প্রশাসনের অনুগত।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও তিন শিক্ষককে বরখাস্ত ও অপসারণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বক্তারা দ্রুত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে মর্মে দাবি জানান।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হক রনি বলেন, ‘যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়ে আসেন, তারা রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য করার জন্যই আসেন। তবে একজন উপাচার্যের কাজ এটা হওয়ার কথা না। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিচার হয়নি। যার ফলে উপাচার্য আজকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে বহিষ্কার করার সাহস পেয়েছেন।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌসের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার, অধ্যাপক মানস চৌধুরী, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান সুমন, অধ্যাপক মোহাম্মদ এমদাদুল হুদা, অধ্যাপক আবদুল জব্বার হাওলাদার, অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।


সর্বশেষ সংবাদ