ঢাবিতে সালাতুল ইস্তিস্কারের অনুমতি ‘না’ দেয়া নিয়ে সমালোচনা, যা বলছে প্রশাসন

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠ
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠ  © ফাইল ছবি

দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপদাহে বৃষ্টি প্রার্থনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সালাতুল ইস্তিস্কার আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। আজ বুধবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাতেই এ নামাজ আদায় সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। 

এদিকে, ঢাবি ক্যাম্পাসে সালাতুল ইস্তিস্কার আদায়ের অনুমতি না দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার রাতে এ কর্মসূচি বাতিলের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরও।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তীব্র তাপদাহে বৃষ্টির জন্য নামাজ আদায় করার অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে না। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তাই অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলে দাবি প্রশাসনের।

জানতে চাইলে ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কোনো শিক্ষার্থী আমার কাছে অনুমতি নিতে আসিনি। যেহেতু দাবদাহের কারণে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে রোদে বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করার অনুমতি দেওয়া ঠিক হবে না। 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে তো অনেক মসজিদ আছে, শিক্ষার্থীরা চাইলে সেখানে মোনাজাত করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা অযথা মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বুধবার এ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। তবে বিষয়টি জানাজানির পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ডেকে খোলা মাঠে সালাতুল ইস্তিস্কার আদায়ের অনুমতি দেয়নি। 

এসময় তারা প্রক্টর অফিসে অনুমতি চাইতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমাউল হল সরকার টিটো বলেন, যেহেতু দাবদাহ চলমান রয়েছে তাই ক্লাসও হচ্ছে অনলাইনে। এজন্য এই মুহূর্তে তীব্র রোদের মধ্যে সালাত আদায় করার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

অনুমতি না পাওয়ার বিষয়ে আয়োজকরা জানান, সালাতুল ইস্তিস্কার আদায় সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তীব্র তাপবদাহ চলমান থাকায় এই মুহূর্তে প্রশাসন আমাদের খোলা মাঠে সালাতুল ইস্তিস্কার আদায়ের অনুমতি দেয়নি। পরবর্তী সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।

এদিকে, ঢাবি ক্যাম্পাসে সালাতুল ইস্তিস্কার আদায়ের অনুমতি না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসুদ কাইয়ুম এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বৈচিত্র্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য! কি হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে! খুবই দুর্ভাগ্যজনক! তীব্র তাপদাহে খোলা মাঠে তারা অনুমতি দেয়নি ইনশাআল্লাহ বৃষ্টি শুরু হলে অনুমতি দেবে! জাস্ট ওয়েট।

ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাবেক দফতর সম্পাদক ইজাজ শাহ লিখেছেন, আমরা যে কোন দেশের মানুষ সেটাই আজ বুঝতে পারছি না! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তবে কি মন্দিরে পরিণত হয়ে গেছে? যে এখানে গান-বাজনা, পূঁজা অর্চনা হবে কিন্তু নামাজ, রোজা, ইফতার এগুলো করা যাবে না?


সর্বশেষ সংবাদ