স্বপ্ন যখন ঢাবি, সতর্কতা তখন সময়ের দাবি

আগে চান্স পাওয়ার নাম্বার নিশ্চিত, এরপর পছন্দের বিষয়ের জন্য প্রচেষ্টা।
আগে চান্স পাওয়ার নাম্বার নিশ্চিত, এরপর পছন্দের বিষয়ের জন্য প্রচেষ্টা।   © সংগৃহীত

স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য চরম আগ্রহ এবং কঠিন পরীক্ষা প্রস্তুতির সাথে সতর্কতাও বেশ জরুরী— পরীক্ষার প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে এবং পরীক্ষার হলে। খুবই সংক্ষিপ্তভাবে কিছু পরামর্শ:

১/পরীক্ষার দিন সকালবেলায় নয়, বরং পরীক্ষার এক-দুই দিন আগে ঢাকায় এসে অবস্থান করবা। এমনও হতে পারে শুধু তোমার এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ হয়েছে এবং তুমি সেটার শিকার!


২/ পরীক্ষার তিন-চার দিন আগ থেকেই নতুন পড়া মুখস্ত করা বন্ধ করে দিয়ে পূর্বের পাঠ বার বার পড়ে খুব ভালভাবে আয়ত্ত্বে আনতে হবে। পরীক্ষার আগের রাত কোনভাবেই দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া যাবে না। দেরিতে ঘুমালে পরীক্ষার হলে তোমার জানা পড়া নিয়েও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।


৩/পরীক্ষার দিন ঢাকায় যানজট হতে পারে, তাই ফজরের পর গোসল করে প্রয়োজনমত খাবার খেয়ে তোমার পরীক্ষার কেন্দ্রে চলে আসবা। পরীক্ষার কেন্দ্রে অবশ্যই এক ঘন্টা আগে এবং পরীক্ষা শুরু ৩০ মিনিট পূর্বে হলে প্রবেশ করবা।

৪/পরীক্ষার হলে অবশ্যই অতি সতর্কতার সাথে OMR Sheet পূরণ করতে হবে। অনেকে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভুল করে। আবার এও শুনেছি যে, অনেকে মনোযোগ না দিয়ে কোচিং সেন্টারের রোল নং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার খাতায় লিখে আসে। এমন বোকামি কখনোই করা যাবে না।

৫/ পরীক্ষার হলে তোমার ইচ্ছেমত যে কোন বিষয়ের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তোমার পরীক্ষা শুরু করতে পার। তবে আগে পাশ নম্বর তুলতে হবে।  কোন প্রশ্ন নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হলে সেটা বাদ দিতে হবে। এরপর মোটামুটি কমন পড়া সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকা প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবা যেতে পারে। তবে না পারা প্রশ্নে উত্তর দাগাতে গেলে তোমার চান্স হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, আগে চান্স, পরে পছন্দের বিষয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়ই ছোট নয়।

৬/ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় কারও থেকে দেখে লেখার সুযোগ থাকে না। তবে কাউকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ তৈরি হলে নিজেকে সংযত রাখবে। কেননা, প্রথমত তা অনৈতিক এবং তুমি নিশ্চিত হও যে, তার উত্তর সঠিক কি না। আর আরেকটি কথা ধরা খাইলে জামিন নাই অবস্থায় পড়তে পারো এবয় তোমার সব স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। তাই সাধু সাবধান।

৭/ভাল প্রস্তুতি থাকার পরও ‍যদি প্রশ্ন কমন না পড়ে এবং পরীক্ষায় তুমি ব্যর্থ হও, তবে হাল ছেড়ে দিও না। কয়েকদিন আগে ডেন্টালের রেজাল্ট দিয়েছিল, সেখানে প্রথম হয়েছে নাজমুস সাকিব রাহাদ। রাহাদ মেডিকেলে ব্যর্থ হয়েও ডেন্টালে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম স্থান অধিকার করতে সক্ষম হয়েছে।

আবার লড়াইয়ের আগেও হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। তাই আশা রাখো— যেতে হবে বহুদূর; ইন-শা-আল্লাহ।

লেখক: ঢাবি শিক্ষার্থী & সংবাদকর্মী


সর্বশেষ সংবাদ