ঢাবি ভর্তিযুদ্ধ: ‘ঘ’ ইউনিটের প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

ভর্তি পরীক্ষা
লেখক ও প্রতীকী ছবি  © টিডিসি ফটো

করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ২৮ মে হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। বাকি আছে মাত্র দুই মাস। এই অল্প সময়ে প্রস্তুতি নিতে হবে আরো সচেতন ভাবে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঢাবির 'ঘ' ইউনিটে ২০২০-২০২১ সালে আসন সংখ্যা ১ হাজার ৫৬০টি।

প্রথমেই জেনে নেয়া যাক পরীক্ষার মান বণ্টন
ঢাবি ঘ ইউনিটে ৩টি বিষয়ের উপর ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার মানবন্টন হবে লিখিত ও এমসিকিউ পদ্ধতিতে। যেখানে লিখিতে থাকবে ৪০ নম্বর ও এমসিকিউ ৬০ নম্বরে। এমসিকিউ এ থাকবে বাংলা / Advanced English (১৫ নম্বর), ইংরেজি (১৫ নম্বর), সাধারণ জ্ঞান (৩০ নম্বর)। যারা A-Level পাশ করেছে কেবল তারাই Advanced English উত্তর দেবে। আর লিখিত পরীক্ষায় থাকবে বাংলা/ Advanced English (১৫ নম্বর), ইংরেজি (১৫ নম্বর), সাধারণ জ্ঞান (১০ নম্বর)।

ঢাবির নতুন মানবন্টনে পরীক্ষা হবে তাই প্রশ্ন প্যাটার্ন নিয়ে প্রতি বছর পরীক্ষার্থীদের হাজারো প্রশ্ন থেকে যায়। ঢাবির ঘ ইউনিটে প্রশ্ন তুলনামূলক অনেক সহজ হয়ে থাকে। প্রিপারেশন ক্লিয়ার থাকলে খুব সহজেই এগুলো উত্তর করা যায়। একে একে সবগুলো বিষয় নিয়ে কিভাবে প্রিপারেশন নিতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত দেয়া হলো,

শেষ মুহূর্তে ঢাবি ঘ ইউনিট ভর্তি প্রস্তুতি

সাধারণ জ্ঞান:
সাধারণ জ্ঞানের দুটি অংশ। এখানে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর প্রশ্ন থাকবে। এ অংশে ভালো করতে হলে অবশ্যই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চলতি ঘটনাবলির ওপর নজর রাখতে হবে। এজন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত পড়া এবং বিবিসি, টেলিভিশন, রেডিওর সংবাদ শুনতে হবে। এর বাইরেও বাংলাদেশ অংশের জন্য দেশের ভূ-প্রকৃতি, আয়তন, শিক্ষা, অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি, উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ও স্থপতির নাম, প্রশাসনিক কাঠামো, চলচ্চিত্র, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, খেলাধূলা, আবহাওয়া, সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতি বিষয় জানতে হবে।

আর্ন্তজাতিক অংশের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আর্ন্তজাতিক বিষয়ের জন্য জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা, স্থাপনা, স্থাপত্য, স্থপতি, নোবেল পুরস্কার, বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা, বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার যেমন অস্কার, পুলিৎজার, বুকার, ম্যাগসেসে, বিশ্বের উচ্চতম, দীর্ঘতম, ক্ষুদ্রতম, বৃহত্তম বিষয়সমূহ, আন্তর্জাতিক চুক্তি, বিশ্বের নামকরা নগর, বন্দর, ব্যয়বহুল শহর ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয় জানতে হবে। সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সবসময় আপডেট থাকতে হবে। সমকালীন ঘটনাপ্রবাহের দিকে নিবিড় নজর রাখতে হবে।
সহায়ক বই হিসেবে গঠন ও তথ্য মূলক বই GK MASTER ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স নিয়মিত পড়বা৷ এই বইগুলো থেকে সর্বশেষ মেডিকেল এক্সামে শতভাগ কমন আসছে৷

বাংলা :
বাংলার জন্য উচ্চমাধ্যমিকের মূল বইটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কিভাবে বাংলা প্রথমপত্র পড়তে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করা যাক-

(১) বাংলা প্রথমপত্রের গদ্য ও পদ্যের "মূলবাণী/প্রধান আলোচ্য বিষয়/ফুটিয়ে তোলা হয়েছে/ব্যক্ত করা হয়েছে/শিক্ষনীয় বিষয়- যে কোনো একভাবে পরীক্ষায় আসতে পারে। তাই প্রতিটা গদ্য ও পদ্যের মুলবাণী সিরিয়াল অনুযায়ী মুখস্ত করতে হবে।
(২) প্রতিটা গদ্যের ও পদ্যের "উৎস" থেকে এক বা একাধিক প্রশ্ন এসে থাকে।
তাই, সবগুলো গদ্য ও পদ্যের উত্স সিরিয়াল অনুযায়ী মুখস্ত করতে হবে।
(৩) কবিতার ছন্দ থেকে প্রশ্ন আসে।
(৪) বাংলা প্রথমপত্র অন্তর্ভুক্ত কবি ও লেখকদের পরিচিতি থেকে প্রশ্ন আসে।
(৫) শব্দার্থ থেকে প্রায় প্রতি বছরই এক বা একাধিক প্রশ্ন এসে থাকে। তাই পাঠ্যবইয়ের অন্তর্ভুক্ত সবগুলা শব্দার্থ ভালোভাবে মুখস্ত করতে হবে।
(৬) "কবিতায় কোনো সংখ্যা/স্তবক/লাইন/কোনো বিশেষ কিছু(যেমন- রং, গাছ, ফুল,ঋতু,মাস.....) কতবার" এ জাতীয় টপিকস থেকে প্রশ্ন এসে থাকে।
(৭)বিভিন্ন গদ্যে ব্যবহৃত চরিত্রাবলী থেকে প্রশ্ন এসে থাকে।
(৮) "উক্তি"- বাংল্সংকলন অন্তর্ভুক্ত কোন রচনায়/কে বলেছে/কাকে বলেছে/কেন বলেছে.. এসব থেকে প্রশ্ন আসে।
এছাড়াও গদ্য ও পদ্যের গুরুত্বপূর্ণ লাইন, ভাষাভিত্তিক অংশ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, সন্ধি। এগুলোর যা যা বইতে আছে, তার সবগুলোই ভালোভাবে পড়তে হবে। তাহলে ইনশাল্লাহ, বাংলা প্রথমপত্র থেকে যে প্রশ্ন গুলো আসবে, তার ৯০% এরই সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে।

দ্বিতীয়পত্র অর্থাৎ ব্যকরণ অংশে ভালো করার জন্য তোমাদের প্রথমেই যে কাজটা করতে হবে, তা হলো
"বাংলা প্রথমপত্র" বইয়ের সবগুলা গদ্য ও পদ্যের শেষে "ব্যাকরণ" এর যা যা দেওয়া আছে, তা বুঝে হোক বা না বুঝে হোক, ভালোভাবে মুখস্ত করতে হবে।
'বাগধারা, সমর্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, পারিভাষিক শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, বানান' এই ৬ টা টপিকস চোখ বন্ধ করে মুখস্ত করতে হবে, যেখানে যা পাবে। মনে রাখবে, এই ৬ টি টপিকস থেকে কমপক্ষে ৪ টি প্রশ্ন আসবেই।

ঘ ইউনিটে যে যে টপিকস থেকে সবচেয়ে বেশিবার প্রশ্ন এসেছে, এমন ৮-১০টি টপিকসের উপর ভালোভাবে প্রস্তুতি নাও।

১. ধ্বনি প্রকরণ
২. যুক্ত ব্যঞ্জন বিশ্লেষণ
৩. শব্দ সম্ভার
৪. পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ
৫. সংখ্যাবাক শব্দ
৬. দ্বিরুক্ত শব্দ
৭. বচন
৮. পদাশ্রিত নির্দেশক
৯. উপসর্গ
১০. সমাস
১১. প্রকৃতি ও প্রত্যয়
১২. পদ প্রকরণ
১৩. পদ পরিবর্তন
১৪. ক্রিয়ার কাল ও ভাব
১৫. বাক্য প্রকরণ
১৬. বাক্য রূপান্তর
১৭. বাচ্য
১৮.যতি ছেদ বিরাম
১৯. শুদ্ধিকরণ

ইংরেজি:
ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য "ইংরেজি" একটি বিরাট ভীতিকর সাবজেক্ট। বিগত সালের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে, এই ভয় পাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। করণ, প্রতিবার ভর্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র ইংরেজিতেই অকৃতকার্য হবার ফলে ঢাবি বঞ্চিত হয় ৮৭-৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী।

Vocabulary, Group Verb, Phrase and Idioms, Appropriate Preposition ইত্যাদি টপিকের যা যা পড়া আছে, তা-ই আবার রিভিশন দাও। এগুলো থেকে কমন পাওয়া কিছুটা দুষ্কর হলেও অসম্ভব না। তাই আপাতত এদিকে বেশি সময় না দেওয়াই ভালো। বেশি জোর দেবে গ্রামার অংশে। প্রতিবছর গ্রামার থেকে ১০-১২টি প্রশ্ন থাকে। Right form of verbs, Narration, Article, Tag Question, Sentence ও Parts of Speech-এর নিয়মগুলো খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখবে।

গ্রামারের ব্যতিক্রম নিয়মগুলো সম্পর্কে যেন স্বচ্ছ ধারণা থাকে। আগের বছরের প্রশ্নগুলো খেয়াল করলে দেখবে—ব্যতিক্রম নিয়মগুলো থেকেই প্রশ্ন এসেছে।

ইংরেজি প্রথম পত্রের কবিতা ও কবির নাম, কবিতার প্রথম ও শেষ লাইন থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা আছে। উইলিয়াম শেকসপিয়ার সম্পর্কিত তথ্যগুলো মনে রাখবে। এর সঙ্গে Lesson ২-এর The Unforgettable History-এর ওপর যেন ভালো দখল থাকে।

এছাড়াও বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র মূল্যায়ন ও সে অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করে প্রস্তুতি গ্রহণ করলে উপকৃত হবে। বিভিন্ন তথ্য মনে রাখার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে পার। সর্বোপরি এগোতে হবে যথাযথভাবে। তোমাদের সবার জন্য শুভ কামনা।

লেখক: সিইও, ডিইউ মেনটরস

 

মন্তব্য