আইবিএ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

আইবিএ
শিশির আসাদ   © ফাইল ফটো

সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের কি কখনো জানতে ইচ্ছে হয়? বাংলাদেশের সেরা তিনটা জায়গা কি কি? হ্যাঁ, বাংলাদেশে সেরা তিনটা জায়গা হচ্ছে বুয়েট, মেডিকেল ও আইবিএ।

আইবিএ কি? আইবিএ হচ্ছে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন। এটাকে সহজ কথায় আমি বলি ব্যবসা বিভাগ স্টুডেন্টদের বুয়েট! আমি বুঝাতে চাচ্ছি ব্যবসা বিভাগের সেরা জায়গাই হচ্ছে আইবিএ। আচ্ছা, ভাইয়া ব্যবসা বিভাগের সেরা জায়গা বললেন তাহলে কি এটাতে শুধু ওরাই এক্সাম দিতে পারে? না ভাইয়া! আইবিএতে বিজ্ঞান, ব্যবসা, মানবিক সবাই এক্সাম দিতে পারে। এটা সব বিভাগের স্টুডেন্টদের জন্যই এবং সব বিভাগ থেকেই চান্স পায়।

আইবিএ কোথায়? এটার এক্সাম কীভাবে হয়? কোথায় হয়? অনেকের কাছে এটা নতুন মনে হচ্ছে! এইতো? ওকে তাহলে শুনো, একটু আগেই বলেছিলাম আইবিএ হচ্ছে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন! যেটায় ঢাবির একটা ইনস্টিটিউট! আইবিএ স্টুডেন্টদের সব থেকে বড় পরিচয় তারা আইবিএর স্টুডেন্ট! কেউ যদি তাদের কখনো জিজ্ঞেস করে, কোথায় পড়ো? তখন একটাই উত্তর আইবিএ! অর্থাৎ এটাই তাদের সব থেকে বড় পরিচয়! ঢাবি থেকেও তারা সবার আগে ফোকাস করে আইবিএকে! কেন না যদি সম্ভব হতো আইবিএকে আলাদাভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ইনস্টিটিউট হিসেবেই করা হতো। সেটা করার সম্ভব হয়নি বিধায় আইবিএকে ঢাবির একটা ইনস্টিটিউট হিসেবেই দেওয়া হয়েছে। যেটাকে বলা যায় ঢাবি-আইবিএ!

আইবিএর এক্সাম মূলত নভেম্বরের শেষ দিকে হয়! অর্থাৎ এইচএসসি এক্সামের পর পাক্কা ৫ মাস পড়ে থাকে আইবিএর জন্য! কিন্তু এবার করোনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ব্যতিক্রম ঘটেছে। তবে খুব তারাতারি সার্কুলার পেয়ে যাবে। কেউ যদি মন থেকে এটাকে ড্রিম হিসেবে নেয় একটু চেষ্টা করলেই সেটা সম্ভব! আইবিএতে চান্স পাবার প্রধান শর্তই হচ্ছে ইংরেজিতে বস হওয়া! আইবিএতে মূলত ইংরেজি, ম্যাথ আর বুদ্ধিমতা আসে! প্রশ্ন হচ্ছে ম্যাথ আসে! কেমন ম্যাথ? তুমি ক্লাস ৫-১০ পর্যন্ত যেই ম্যাথ গুলা করে আসছো ঠিক সেগুলাই আসবে। তখন বাংলাতে আসছে এখন আসবে ইংরেজিতে। জাস্ট এতটুকুই! লাভ-ক্ষতি, সুদ কষা, ভগ্নাংশ ইত্যাদি বিষয়গুলার উপর ছোট থেকেই যার বেসিক যত ভালো তার জন্য আইবিএ তত বেশি সহজ।

সুতরাং এটা নিয়ে ভয় পাবার কিছু নেই। কেননা আইবিএর জন্য পাক্কা ৫ মাস পড়ে থাকে! অনেকে জানতে চেয়েছো ঢাবিতে এক্সাম দিয়ে দিলে আইবিএতে এক্সাম দেওয়া যায়? আই রিপিট আইবিএর পরিচয় আইবিএ! ঢাবির এক্সামের সাথে আইবিএর এক্সামের কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ তুমি ঢাবির দুইটা ইউনিটে এক্সাম দেওয়ার পরও আইবিএতে এক্সাম দিতে পারবে। আইবিএ প্রিপারেশন নিলে আর কোথায় কোথায় হবে? আইবিএর প্রিপারেশন নিলে জাহাঙ্গীরনগর আইবিএ, বিবিএ, বিইউপি বিবিএ জেনারেল, বিইউপি বিবিএ, খুবি বিবিএ সহ আরও অনেক অনেক জায়গা আছে।

পরীক্ষার বাছাই প্রক্রিয়া: লিখিত পরীক্ষার পর সাধারণত ১৬০-১৮০ জন শিক্ষার্থী বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পান ১২০ জন। এ ক্ষেত্রে কোনো অপেক্ষমাণ তালিকা থাকে না, অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর যদি কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হন, তবে তাঁর আসনটি শূন্য থাকে।
বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম বা মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ক্ষেত্রে কিছু পূর্বশর্ত থাকে। যেমন গত বছর বলা হয়েছিল, বাংলা মাধ্যম ও মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—দুই পরীক্ষা মিলে চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ ৭.৫ থাকতে হবে। আর ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ও লেভেল এবং এ লেভেলের সাতটি বিষয়ের মধ্যে অন্তত চারটিতে বি গ্রেড এবং তিনটিতে সি গ্রেড থাকতে হবে।

পরীক্ষার নিয়মকানুন: আইবিএর ভর্তি পরীক্ষার কাঠামো অনেকটাই আলাদা। এখানে ভর্তি পরীক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, কম সময়ে বেশি সঠিক উত্তর দেওয়া। কিন্তু অন্যান্য বিভাগের ভর্তি পরীক্ষার মতো এখানে উচ্চমাধ্যমিকের কোনো বই পাঠ্যসূচিতে থাকে না। এমনকি কোনো নির্ধারিত পাঠ্যসূচিই আইবিএর ভর্তি পরীক্ষায় নেই। শুধু জানিয়ে দেওয়া হয়, কোন কোন বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হবে।

ভর্তি পরীক্ষার দুটি ধাপ— লিখিত ও মৌখিক। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়। লিখিত পরীক্ষারও রয়েছে দুটি অংশ— বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও রচনামূলক (ন্যারেটিভ)। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার সময় ৯০ মিনিট। এতে তিনটি অংশ থাকে— ইংরেজি, গণিত ও অ্যানালিটিক্যাল বা বিশ্লেষণী অংশ। তিন বিষয়ের এই নৈর্ব্যক্তিক অংশে মোট নম্বর হলো ৭৫।

উল্লেখ্য, প্রতিটি বিষয়ে আলাদা করে উত্তীর্ণ হতে হবে। উত্তীর্ণ হওয়ার নম্বর বছরভেদে বা প্রশ্ন কতটা কঠিন বা সহজ হলো, তার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ে অন্তত ৬০ ভাগ নম্বর না পেলে উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইংরেজিতে সাধারণত গ্রামার (ব্যাকরণ), কম্প্রিহেনশন ও ভোকাবুলারির ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন করা হয়। গণিতের প্রশ্ন বীজগণিত বা অ্যালজেব্রা, পাটিগণিত বা অ্যারিথমেটিক, জ্যামিতি বা জিওমেট্রি কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। অ্যানালিটিক্যাল বা বিশ্লেষণী অংশের প্রশ্নের ধরনে কিছু বৈচিত্র্য থাকলেও পাজল মেলানো, ক্রিটিক্যাল রিজনিং বা কোনো ঘটনার সবচেয়ে সঠিক কারণ নির্ণয় করা, ডেটা সাফিসিয়েন্সি বা প্রদত্ত তথ্য যথেষ্ট কি না ইত্যাদি থাকে প্রশ্নপত্রে। রচনামূলক পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট। এ ক্ষেত্রে সাধারণত নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে ইংরেজি ও বাংলায় দুটি অনুচ্ছেদ লিখতে দেওয়া হয়।

পরামর্শ: ১. একটা প্রশ্ন সমাধানের পেছনে অনেক সময় ব্যয় করা যাবে না। কোনো প্রশ্ন বেশি কঠিন মনে হলে পরের প্রশ্নে চলে যেতে হবে।
২. প্রস্তুতির সময় প্রতিটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা প্রতিটি বিষয়েই আলাদাভাবে পাস নম্বর লাগবে।
৩. প্রতিদিন ১০-২০টি নতুন ইংরেজি শব্দ শিখুন। কারণ, ভর্তি পরীক্ষায় আপনার ‘ভোকাবুলারি’ একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৪. সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল রপ্ত করতে হলে পুরোনো প্রশ্ন সমাধান ও মডেল টেস্টের মাধ্যমে নিয়মিত চর্চা জরুরী।

লেখক: সিইও, ডিইউ মেনটরস


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ