হাজার হাজার পরীক্ষার্থী দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই

ভর্তি পরীক্ষা
মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন  © ফাইল ফটো

মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন। নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি মেডিকেল ভর্তি ইচ্ছুকদের জন্য মেডি-ভিশন নামের একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। মেডিকেল ভর্তির প্রস্তুতিসহ নানা খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন- আবদুর রহমান

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: মেডিকেল চান্স পাওয়ার জন্য আপনি কীভাবে পড়েছেন, দৈনন্দিন রুটিন কী ছিল?
মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন: রুটিন মাফিক পড়াশোনা ছাড়া মেডিকেলে চান্স পাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খুবই স্বল্প থাকে। তাই নষ্ট করার মতো সময় থাকে না। আমি ব্যাক্তিগতভাবে নিজেও খুব শক্ত রুটিন ফলো করতাম। আর রুটিনে শুধু পড়াশোনা নয় বরং দৈনন্দিন যে কার্যক্রমগুলো যেমন খাওয়া ঘুম-নামাজ এগুলোও থাকতে হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুটিন করেই খুশি হলে চলবে না বরং সেটা মেনে চলার জন্য যথেষ্ট ডেডিকেশান থাকতে হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: মেডিকেল চান্স পাওয়ার কোনো সহজ টেকনিক আছে? থাকলে বলুন।
মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন: মেডিকেল এ চান্স পাওয়ার সবচেয়ে সহজ টেকনিক হলো রেগুলারিটি মেইনটেইন করা। যে শিক্ষার্থী রেগুলার পড়াশোনায় থাকতে পারবে এই ক্ষীণ সময়টাতে ইনশা আল্লাহ তার চান্স কেউ আটকাতে পারবে না। কিন্তু প্রধান সমস্যা হলো শিক্ষার্থীরা রেগুলারিটি ধরে রাখতে পারে না। এজন্য নিজেকে নিজের জন্য কঠোর হতে হবে। কারণ যুদ্ধে জয়ী হতে হাড়ভাঙ্গা লড়াইয়ের কোন বিকল্প নেই যারা কেবল আত্মবিশ্বাসী আর নিজের মেধাকে সময়মতো কাজে লাগাতে পারে তারাই টিকে থাকে ভর্তিযুদ্ধে। মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ, প্রশ্নও টেকনিক্যাল। শিক্ষার্থীকে ব্যতিক্রমী অনুশীলনের মাধ্যমে প্রস্তুতির বিষয়গুলোকে আত্মস্থ করতে হয়। কেবল আত্মবিশ্বাস আর যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া সম্ভব। ফলাফল যতই ভালো হোক, পরীক্ষার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের প্রস্তুতিকে ধরে রাখতে হবে। না হলে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: কোচিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ? যাদের কোচিং করার সুযোগ নেই তারা কীভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে?
মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন: সকল এডমিশান এই কোচিং একটি প্রধান সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পথ প্রদর্শক যেমন পথিককে একটি আনকোরা পথ চিনিয়ে দেয়, তেমনি কোচিং এর অভিজ্ঞ ভাইয়ারাও তাদের পরামর্শ ও দায়িত্বের মাধ্যমে এডমিশন-এর কঠিন রাস্তার সবচেয়ে সরলতম পথটাকে দেখিয়ে দেন। তবে কোচিং ছাড়া চান্স অসম্ভব, এমনটা নয়। সেক্ষেত্রে নিজের সিরিয়াসনেস সর্বোচ্চ থাকতে হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: গাইড বই নাকি টেক্সট বই- কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন: প্রস্তুতির ক্ষেত্রে টেক্সট বই এবং প্র্যাকটিস এর বিকল্প নেই। টেক্সট বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো বারবার রিভিশন এবং এইগুলোর প্রতি সময় বেশি দিতে হবে। পুরনো পড়াগুলো বার বার রিভাইস দিতে হবে। টেক্সট বইয়ের পাশাপাশি ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান থেকেও প্রশ্ন করা হয়। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইংরেজি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা ইংরেজিতে অন্যদের চেয়ে তুলনামূলক ভালো করলে ভর্তিযুদ্ধে নিজের টিকে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। ইংরেজির ব্যাকরণ অংশ যেমন পার্টস অব স্পিচ, সেনটেন্স, জেন্ডার, নাম্বার, আর্টিক্যালস, টেন্স, ভয়েস, ট্রান্সফরমেশন অব সেনটেন্সেস, ন্যারেশন, প্রিপজিশন, ট্যাগ কোয়েশ্চেন, কন্ডিশনাল সেনটেন্স, রাইট ফরম অব ভার্বস, স্পেলিং, এনটোনিম-সিনোনিম, কারেকশন, অ্যানালোজি ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে।

সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য : কোথায় কখন কী ঘটছে এসব সাম্প্রতিক বিষয়ের ওপর খোঁজখবর রাখতে হবে। রেডিও-টেলিভিশনের খবর শুনতে হবে নিয়মিত। সাধারণ জ্ঞানে ভালো করার জন্য বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি বাংলা পিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, এনসাইক্লোপিডিয়া ও উইকিপিডিয়ার সহায়তা নেয়া যেতে পারে। দৈনন্দিন বিষয়ে ভালো করার জন্য জাতীয় দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও সম্পাদকীয় অংশে চোখ রাখতে হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: যারা একই সাথে একাধিক ইউনিটের প্রস্তুতি নেয়, তাদের জন্য পরামর্শ কি?
মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন: একাধিক ইউনিট এর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে, বিজ্ঞান বিষয়ক ইউনিটগুলোর জন্য গণিত ছাড়া আর সকল বিজ্ঞানের সাবজেক্টগুলোই মেডিকেল এডমিশন-এর প্রস্তুতির জন্য সম্পন্ন করা হয়। তাই এক্সট্রা করে শুধু মাত্র ম্যাথ প্রাক্টিস করলেই প্রস্তুতি পরিপূর্ণ হবে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসছে। শেষ সময়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে নিয়ে কিছু বলুন।
মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন: শেষ সময়ের প্রস্তুতির জন্য শুধু গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো বেশি বেশি রিভিশন এবং সে অনুযায়ী প্র্যাকটিস। আর কোন বিকল্প নেই। ইনশাআল্লাহ নিয়ম মাফিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারলে একজন আত্মবিশ্বাসী পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে মেডিকেল এ চান্স পাওয়া কঠিন কিছুই নয়।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: পরীক্ষার হলে কি কি কাজ করা উচিত নয়?
মোহাম্মদ ফাইজুস সালেহীন: অনেকেই পরীক্ষার হলে নার্ভাস হয়ে পড়ে, যা একদম উচিত না। পরীক্ষার হলে নিজের মনোবল ধরে রাখতে হবে। দেখা যায় অনেকের প্রস্তুতি ভালো থাকার পরেও পরীক্ষার হলে নার্ভাসনেসের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারে না। উত্তর দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে উত্তরপত্রে বৃত্ত যেন ঠিকঠাক ভরাট করা হয়। অনেকেই তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ভুল করে উত্তরপত্রে এক প্রশ্নের উত্তর অন্য বৃত্তে ভরাট করে। উত্তর দেয়ার সময় প্রশ্নের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করে উত্তর দিতে হবে। পরীক্ষার হলে আনকমন প্রশ্ন দেখে একদম ঘাবড়ে যাওয়া যাবে না।

পরীক্ষায় দু-একটা প্রশ্ন আনকমন আসতেই পারে- এটা মাথায় রেখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। আনকমন প্রশ্ন দেখে নিজেকে হতাশ করা যাবে না। আর যারা প্রথমবার পরীক্ষা দেবে, হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর দীর্ঘ লাইন দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। মানসিক দৃঢ়তা এমন হতে হবে, যে কয়েকজন ভর্তির সুযোগ পাবে আমি তাদের মধ্যে একজন। এরকম সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ