১২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:৫২

ঢাবির ৬ হলে ছাত্রদলের কমিটি না হওয়ার নেপথ্যে ‘কর্মী সংকট ও সমন্বয়হীনতা’

ঢাবি ও ছাত্রদলের লোগো  © সংগৃহীত

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোট ১১টি হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি আছে। ২০২০ সালের ২১ শে মার্চে প্রতি হলে সর্বনিম্ন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়েছিল। যদিও এসব হল কমিটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থী বা কর্মী না থাকায় অনেকটা অপূর্ণাঙ্গই বলা চলে। এভাবে এই ১১ হলে অন্ততপক্ষে অপূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলেও সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলসহ মেয়েদের পাঁচ হলের কোনটাতেই এখন পর্যন্ত কোন কমিটি দেয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: শতবর্ষ পালনে উদাসীন ছাত্রসংগঠনগুলো

এর নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন নেতাকর্মীরা। সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের কমিটি দেয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়হীনতা। মেয়েদের হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী ও আগ্রহী প্রার্থী না থাকা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মানসম্মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন?

ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে কমিটি গঠন হওয়ার সময় সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে সমপর্যায়েরই মোট ছয়-সাত জন ছিলেন। তারা সকলেই সিনিয়র, কর্মঠ, সংগঠনের জন্য ত্যাগী এবং যোগ্য হওয়ার কারণে প্রার্থী নির্বাচনে ঢাবি ছাত্রদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও এক ধরনের অনৈক্যের সৃষ্টি হয়। যার কারণে, বছর পেরিয়ে গেলেও এই অনৈক্য ভেঙ্গে একতার সুর মিলিয়ে এখন পর্যন্ত কমিটি দেয়া হয়ে ওঠেনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলে।

তাছাড়াও রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হল, কবি সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গমাতা ফজীলাতুন্নেসা হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী— মেয়েদের এই পাঁচ হলে ছাত্রদলের এক্টিভ কর্মী নেই বললেই চলে। আর যদিও থেকে থাকে, সংগঠনের কার্যক্রম চালানো তো দূরের কথা তারা হলে থাকার কারণে ক্ষমতাশীল দলের চাপে মুখও খুলতে পারেননা। আর ছাত্রদলের পদ নিয়ে হলে অবস্থান করা তো অসম্ভব।

আরও পড়ুন: জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের গৌবরগাঁথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি দিল ঢাবি

এ ব্যাপারে ঢাবি ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির একজন নারী সদস্য বলেন, সার্বিকভাবে রাজনৈতিক অনুকূলতা থাকলে মেয়েদের হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে আমরা কাজ করতে পারতাম। এখন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে হলগুলোতে কর্মী এবং প্রার্থী কোনটাই পাওয়া যাচ্ছেনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিরোধী ছাত্র সংগঠন রয়েছে তারা কমিটিই দিতে পারেনি। আর আমাদের আহবায়ক কমিটি হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই ছেলেদের প্রত্যেকটা হলে কমিটি দিতে সক্ষম হয়েছি। তবে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল বাদ রয়েছে, সাংগঠনিক কিছু কারণে কমিটি দেয়া হয়ে ওঠেনি।

তিনি আরও বলেন, খুব শিগগির আমরা এই হলে (সলিমুল্লাহ মুসলিম) কমিটি গঠন করবো। এ ব্যাপারে আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অলরেডি হয়ে গেছে। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে মেয়েদের হলে কিছু জটিলতা আছে। সংগঠনের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসকল সমস্যা যতটুকু সম্ভব সমাধান করে মেয়েদের হলেও অচিরেই কমিটি দেয়া হবে।