অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতে সন্তানের পরীক্ষা

পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষে খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়ল শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ে হাতে এসে গেল পরীক্ষার প্রশ্নও। তবে পরীক্ষার পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ রয়েছেন শিক্ষার্থীদের নিজ অভিভাবকরা। কারণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলে নয়, শিক্ষার্থীদের বাড়িতে। করোনার বন্ধের সময়ে এমন উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত ফরিদপুরের নগরকান্দায় সরকারি এম এন একাডেমি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ সংশ্নিষ্ট রাখার লক্ষ্যে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৯ জুন ও দ্বিতীয় ধাপে ১৯ জুলাই শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ বাড়িতে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান বজায় রাখতে এ উদ্যোগ চলমান থাকবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাড়িতে প্রথমে সিলেবাস ও পরীক্ষার দিন সকালে অভিভাবকের কাছে প্রশ্ন পৌঁছে দেওয়া হয়। পরীক্ষার সব নিয়মনীতি অনুসরণ করবেন অভিভাবক। এ পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হচ্ছে না।

অভিভাবক আবু মুছা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ঝিমিয়ে পড়েছিল। এমন সময় এম এন একাডেমি কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বসে পরীক্ষা নেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, একে স্বাগত জানাই। স্কুলের সিলেবাস পেয়ে আর পরীক্ষার সংবাদ পেয়ে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় বেশ মনোযোগী হয়েছে।

১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি এম এন একাডেমি জাতীয়করণ হয় ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ১১০ জন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মেধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুর ২টা থকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিজ বাড়িতেই অভিভাবকের তত্ত্ব্বাবধানে পরীক্ষা দেয়। আগেই সিলেবাস তৈরি করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

রোববার সকালে প্রশ্নপত্র অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। নিয়ম মোতাবেক দুপুর ২টায় অভিভাবক শিক্ষার্থীর হাতে প্রশ্ন তুলে দেন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীর বাড়িতে একযোগে চলে এ পরীক্ষা। গত জুন মাসের ১৯ তারিখে প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯ জুলাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেতী প্রু বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সব বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় উপজেলার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান বজায় রাখতে প্রাথমিকভাবে সরকারি এম এন একাডেমিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে দেশের এই মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে পিছিয়ে না পড়ে।


সর্বশেষ সংবাদ