বন্যার্তদের ত্রাণ নাকি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন— আহমাদুল্লাহর পোস্টে কমেন্ট করে বিপাকে ববি শিক্ষক

ববি শিক্ষক সঞ্জয় সরকার ও আহমাদুল্লাহ
ববি শিক্ষক সঞ্জয় সরকার ও আহমাদুল্লাহ  © টিডিসি ফটো

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান সঞ্জয় সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাম্প্রদায়িক উস্কানীর অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বরাবর একটি অভিযোগপত্র প্রক্টর ড. মো. খোরশেদ আলমের কাছে জমা দিয়েছেন তারা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২১ জুন তারিখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান সঞ্জয় সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায় তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুকে ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়কে কটাক্ষ করে কুরুচিপূর্ণ ও উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাদের এমন গর্হিত কাজের প্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে। যা আমাদের অসাম্প্রতিক চেতনার পরিপন্থী।

এসময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহর একটি পোস্ট ‘‘অনুগ্রহ করে এবার বন্যার্তদের জন্য অবৈজ্ঞানিকভাবে ঢাকায় কেউ মোম প্রজ্বালন করবেন না। পারলে সে মোমগুলো দুর্গতদের জন্য পাঠিয়ে দিন।’’

এই মন্তব্যটি Jahangirnagar University-Admission Test নামের একটি পেজ থেকে প্রকাশ করা হলে শিক্ষক সঞ্জয় সরকার ওই পোস্ট শেয়ার করে ফেসবুকে লিখেন ‘‘আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মৌলবাদ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দিয়ে পেজ খুলে সেসব প্রচার করা হচ্ছে। এসবের দায় একদিন আমরা কেউ এড়াতে পারবো না।’’

আরও পড়ুন: বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে শায়খ আহমাদুল্লাহ

সঞ্জয় সরকারের এই পোস্ট শেয়ার করার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায়ের বিরুদ্ধেও ধর্মীয় উস্কানীর অভিযোগ আনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ফেসবুকে তারা ধর্মীয় উস্কানী দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই ভার্চুয়াল প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আব্দুল কাইয়ুম ফেসবুক পোস্টে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা অন্যের ধর্ম নিয়ে প্রতিনিয়ত কটূক্তি করে তারা পক্ষান্তরে নিজেদের ধর্মকেও ছোট করে। ধর্ম নিয়ে যারা কটূক্তি করে তাদের উদ্দেশ্য হলো শান্ত পরিবেশ অশান্ত করা এবং সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেয়া। এটা দুঃখজনক ঘটনা এবং খুব দ্রুত এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তার ব্যবস্থা নেয়া হোক।

ইংরেজী বিভাগে সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, দুর্জন বিদ্যান হলেও পরিত্যাজ্য।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সঞ্জয় স্যারের ক্রমাগত ফেসবুকে ধর্ম বিদ্বেষের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভক্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মোমবাতি প্রজ্বলন ও বন্যার্তদের সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে আলেমদেরকে মৌলবাদী বলায় তা আরো প্রকট হলো। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে স্যারের কাছ থেকে আমরা এমনটা কখনও আশা করি না।

অভিযোগের বিষয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘‘এটা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কোন কথা না। কেউ যদি বলে থাকে তাহলে সেটা ভুল বুঝেছে। স্টুডেন্টরা কেউ যদি ভুল বুঝে আমাকে কিছু বলে থাকে সেটাতে আমার কোন কথা বলার নেই।’’

অভিযোগের বিষয়ে বাংলা বিভাগের আরেক সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায় বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া দ্যা ডেইলি ক্যাম্পসকে বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি। আমি একটি মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের অভিভাবক ভিসি স্যারের সাথে কথা বলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপককে ড. মো. সাদেকুল আরেফিন একাধিক কল করেও তার থেকে কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


x