বেরোবিতে সশরীরে প্রতীকী পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে 
প্রতীকী পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে প্রতীকী পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে প্রতীকী পরীক্ষা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন।  

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পোমেল বড়ুয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যারয়গুলো সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটা অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের এখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সক্ষমতা কতটুকু সে দিকটা এখানে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে এর প্রতিবাদ হিসেবে আমরা সশরীরে পরীক্ষার আয়োজন করেছি। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের বিষয়টা আমলে নিয়ে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন করে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একটা নির্দেশ জারি করবে।’

প্রতীকী পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক মাহমুদুল হক বলেন, ‘অনলাইনের পরীক্ষা সিদ্ধান্ত বাতিল করে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য যে আন্দোলন হচ্ছে সেটার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে এই পতিকী পরীক্ষা নেওয়া। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয় সেমিস্টার পদ্ধতিতে। এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া যায়। কিন্তু অনলাইনে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেগুলো তারা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। ক্লাস নেওয়ার সময়ই আমরা এসব সমস্যা ফেস করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের যে দক্ষতা বা যোগ্যতা সেটা খুব বেশি আছে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নিজস্ব একটা সফটওয়ার লাগে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ডিভাইস, ইন্টারনেট সহ আরও অনেক সমস্যা রয়েছে যেগুলো অনেক বড় বাধা। তাই আমি একজন শিক্ষক হিসেবে মনে করছি সকল দিক বিবেচনা করে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়াটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত। এজন্য আমরা প্রতীকী এই পরীক্ষার আয়োজন করেছি।’  

এর আগে প্রতিবাদ জানিয়ে বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে স্টুডেন্ট রাইটস ফোরামের ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক একাত্বতা ঘোষণা করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি অফিস আদেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  

রিলেটেড সংবাদ: 

সশরীরে পরীক্ষার দাবিতে বেরোবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বেরোবিতে আবারও টাঙানো হয়েছে উপাচার্যের হাজিরা খাতা


সর্বশেষ সংবাদ