রেলওয়ের চার সেট প্রশ্ন তালা ভেঙে বের করেন পিএসসির ঝাড়ুদার

১২ জুলাই ২০২৪, ১০:০৮ AM , আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৫, ১১:৪১ AM

© সংগৃহীত

পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সংস্থার সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ অন্য আসামিরা সুবিধাভোগীদের বিষয়ে নানা তথ্য দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, পিএসসির পাশাপাশি সরকারের অন্য দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায়ও তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন। কোন কোন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে, সেটাও বলেছেন তারা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিএসসির এক ঝাড়ুদার এ চক্রে জড়িত।

গত ৬ ও ৭ জুলাই পিএসসির উপপরিচালক মো. আবু জাফর ও জাহাঙ্গীর আলমসহ ১৭ জনকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ছয়জন। বাকিদের মধ্যে পিএসসির উপপরিচালকসহ ১০ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেছে সিআইডি।

নাম প্রকাশ না করে সিআইডির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আবেদ আলীসহ অন্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছেন। আবেদ আলীর নেতৃত্বে গ্রুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫০ জনের মতো। তার মধ্যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের সদস্যরা ঢাকার বাইরে গা ঢাকা দিয়েছেন। প্রায় সবারই নাম ও মোবাইল নাম্বার পাওয়া গেছে। তবে কারও কারও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে

ট্র্যাংকের তালা ভেঙে প্রশ্ন বের করতেন ঝাড়ুদার : তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে পিএসসির সাবেক ও বর্তমান একাধিক সদস্য জড়িত বলে সন্দেহ করছে সিআইডি। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলহোতা সৈয়দ আবেদ আলীর প্রধান সহযোগী ছিলেন অফিস সহায়ক সাদেজুল ইসলাম। তিনি উপপরিচালক জাফর ও সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে প্রশ্ন পেতেন। সাজেদুলের প্ররোচনায় জাফর ও আলমগীর পিএসসির এক ঝাড়ু–দারকে দিয়ে পিএসসি সদস্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের কক্ষের ট্রাংকের তালা ভেঙে প্রশ্নপত্র বের করে নিতেন। ট্রাংকের তালা খোলার পর নতুন তালা লাগিয়ে দিতেন তারা। ওইসব প্রশ্ন আসামি সাখাওয়াত ও সাইমের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বিক্রি করতেন। এ ছাড়া জাফরের মালিবাগে জ্যোতি কোচিং সেন্টার ও আলমগীরের মিরপুরের কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে প্রশ্ন চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বিক্রি করতেন। সাজেদুল আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, তারা ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার চার সেট প্রশ্ন ও রেলওয়ের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (নন-ক্যাডার) নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন।

গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের সব মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এতে তাদের লেনদেন, বিভিন্ন অ্যাপসে মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া যাবে। যার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের বক্তব্যে অনেক ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। সেগুলো আবার যাচাই-বাছাই করার জন্য ১০ জনকে রিমান্ড চেয়ে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আবেদ আলী জানিয়েছে, তিনি রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় ৮০ জনের কাছে প্রশ্ন বিক্রি করেছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে ২ লাখ করে টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার চার সেট প্রশ্ন পাওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের সেগুলো সরবরাহ করেন। তাদের একটি কোচিংয়ে ডেকে প্রশ্নগুলো দিয়ে মুখস্থ করান।

ট্যাগ: পিএসসি
নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন কে?
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
মির্জা ফখরুলের প্রতি এমপি মানসুরার বিদায়ী নোট
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
ছুটি ছাড়াই ৬ মাস কর্মস্থলে নেই জাবিপ্রবি কর্মচারী, চূড়ান্ত …
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
পে স্কেলের গেজেট জারি হতে পারে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি, বলছে …
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
শাইখ সিরাজকে লিগ্যাল নোটিশ
  • ২০ আগস্ট ২০২৬