কলেজের সহকারী অধ্যাপক জামায়াত প্রার্থীর ব্যানার-লিফলেটে ‘অধ্যাপক’
বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা আমির মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার। নির্বাচনী প্রচারের জন্য ব্যানার-লিফলেটে তার পদবি লিখেছেন ‘অধ্যাপক আবদুল জব্বার’। তবে কলেজে তিনি অধ্যাপক নন, এর দুই ধাপ নিচের সহকারী পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কর্মস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল নগরের সিটি কলেজের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার। দুই বছর পরেই অবসরে যাবেন তিনি। বেসরকারি পর্যায়ে এরপর আর কোনও পদ না থাকায় সিনিয়র হিসেবে অন্যদের মতো তিনিও পদবি হিসেবে ‘অধ্যাপক’ ব্যবহার করেন বলে সংশ্লিষ্ঠরা জানিয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
জানা গেছে, অধ্যাপক পদের দুটি গ্রেডের নিচের পদ সহকারী অধ্যাপক। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের সর্বোচ্চ পদ হলো সহকারী অধ্যাপক। বেতন স্কেল গ্রেড-৬। কলেজে শিক্ষকদের প্রথম পদ প্রভাষক। ডিগ্রি কলেজে এমপিভুক্তির ৮ বছর পর একজন প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। এরপর আর পদোন্নতি নেই।
সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপকের পর ‘সহযোগী অধ্যাপক’ ও ‘অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতি পান শিক্ষকরা। সর্বশেষ পদের বেতন গ্রেড তৃতীয়। এদিকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল জব্বারের ব্যানারে দেখা গেছে, নাম লেখা হয়েছে ‘অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার’। নির্বাচন কমিশনে হলফনামায় লেখা হয়েছে ‘মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার’। পেশা বেসরকারি কলেজ শিক্ষক।
আরও পড়ুন: নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করায় জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ
বেসরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপকের পরে আর পদ নেই জানিয়ে বরিশাল সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার দুই বছর পর অবসরে যাবেন। নামের আগে অধ্যাপক লেখা কলেজ শিক্ষকদের ট্র্যাডিশন, এটা সবাই লেখেন।
বরিশাল-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান জহির উদ্দিন ইয়ামিনও প্রার্থীর ব্যক্তিগত বিষয়ে বক্তব্য দিতে চাননি।
এ বিষয়ে জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের কাছে কর্মপরিচয় দেওয়া আচরণবিধির আওতাভুক্ত নয়। এগুলো প্রার্থীর নৈতিকতার মধ্যে পড়ে। আর সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলমের ভাষ্য, প্রার্থীর পরিচয়ের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে তার বিষয়ে এটি একটি বার্তা।