০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১২

পে স্কেল বাস্তবায়ন কবে, যা আছে বিএনপির ইশতেহারে

ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি  © ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত ইশতেহারে প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পে স্কেল যথাসময়ে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে ৯ পয়েন্টে প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা জানিয়েছে দলটি। ইশতেহারে জনপ্রশাসন অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ‘যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।’

মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণ বিষয়ে বলা হয়েছে, মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।

স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লক্ষ সরকারি কর্মচারি নিয়োগ: সরকারের বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় প্রায় পাঁচ লক্ষের অধিক সরকারি কর্মচারীর পদ শূন্য আছে। যতদ্রুত সম্ভব সম্পূর্ন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সকল শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন: বিএনপি মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রশাসনিক সংস্কারসমূহ যথেষ্ঠ নয়। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা ও জনপ্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে জনপ্রশাসন সংস্কার ও পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গঠন: দক্ষ, মেধাবী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করা হবে। সংবিধানের আলোকে একটি যথোপযুক্ত সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে।

আরও পড়ুন: সরকারের যেসব ‘সাফল্য’ স্মরণ করিয়ে দিলেন বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্স চালু করা হবে। জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন: পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে নিয়মিত দ্বায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাধারণ (অন্য সকল সেক্টরে) নিয়োগের জন্য যথোপযুক্ত ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে।

বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন: বেসরকারি চাকুরিজীবীরা যাতে প্রাপ্য ন্যায্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি ও দলীয়করণ রোধ: বিগত দিনগুলোতে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। এ কারণেই ব্যক্তির বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্যকে বিবেচনায় না নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে কেবলমাত্র সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশ-প্রেম ও অভিজ্ঞতার বিচার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসন, পুলিশ এবং সকল প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বিএনপি।