এবার পাল্টা পোস্ট করে শাওনকে এক হাত নিলেন জুলকারনাইন সায়ের
অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওনকে উদ্দেশ্য করে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই পোস্টের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন শাওন।
শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, আপনি ভাগ্যবান যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশ নিজ পরিচয় ব্যবহার করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আপনাকে ২২ ঘন্টা নিজ হেফাজতে রেখে (সাধারণত পুলিশ সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা রাখতে পারে), সসম্মানে ছেড়ে দিয়েছে।
সায়ের তার পোস্টে উদাহরণ হিসেবে সঞ্জিদা ইসলাম তুলি ও তার বড় ভাই সুমনের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি লেখেন, তুলির বড়-ভাই সুমনকে যারা বাসা থেকে নিয়ে যায়, তারা আজ পর্যন্ত সুমনকে ফেরত দেয়নি, সুমনের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো, সেটা তার পরিবার এখনো জানেনা। একইভাবে তিনি মীর আহমদ বিন কাসেমের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যাকে কোন অপরাধ ছাড়া লোকটাকে আট বছর নিকষ কালো একটা প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হয়েছিলো।
জুলকারনাইন সায়ের আরও লেখেন, সুমন ভাই আর আরমান দু'জনের ছোট সন্তান রয়েছে। আপনি ২২ ঘন্টা আটক থেকে ট্রমাটাইজড হয়েছেন, আর আপনার পরিবার জানতো আপনি কোথায় আছেন। একটু ভাবুনতো বছরের পর বছর যারা জানতেন না তাঁদের প্রিয় পরিবারের সদস্যটি কোথায় আছেন, যে সন্তানরা জানতো না যে তাদের পিতা আদৌ বেঁচে আছে কিনা, তাঁরা কতটা ট্রমাটাইজড হয়েছে?
আরও পড়ুন: জামায়াতের ঐক্যের সরকারে তারেক রহমানের ‘না’, নির্বাচনে জয় নিয়ে যা বললেন রয়টার্সকে
একই পোস্টে তিনি একটি চিঠির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এবার আসুন এই চিঠির বিষয়ে, আপনার কি জানা আছে যে এই চিঠিতে ২নং এ যেই রুবেলের কথা উল্লেখ করা আছে, সেই রুবেল এ মাসের ১লা ফেব্রুয়ারি, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে? এখানে যার নাম ১ নম্বরে আছে, নানক— নানকের পিএস বিপ্লব ও ৬ নম্বরে থাকা ইসমাইল হোসেন চৌধুরি সম্রাট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কি কি চেষ্টা করে চলেছেন?
জুলকারনাইন সায়ের তার পোস্টে আরও লেখেন, এই চিঠিটি বানোয়াট নয়, সমস্যাটা হলো আপনাদের মতো প্রতিষ্ঠিত-শিক্ষিত নাগরিকদের মেকি বিবেক। আর এই মিটিং এর সকল তথ্য যেমন সত্য, আপনার সেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়াটাও তেমনই সত্য।
এই পোস্টের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মেহের আফরোজ শাওন নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জুলকারনাইন সায়েরকে সম্বোধন করে লেখেন, জনাব সায়ের, আপনার সাথে আমার পরিচয় নেই। ৪/৫ বছর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি তথ্যচিত্রের কারণে আপনার নাম আলাদা করে জেনেছি। পরবর্তীতে দেখলাম ২০১৫ সালের শুরুতে এবং শেষে আপনার সাথে আমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে ছোট্ট একটু কথা হয়েছে! আমি আপনার বন্ধু দলে যেমন পড়ি না, আপনার সাথে আমার কোনো প্রকার শত্রুতা আছে বলেও মনে করি না।
শাওন লেখেন, এক বছর আগে আপনার একটি পোস্টে আমার নাম আসে। যেখানে আপনি বলার চেষ্টা করেন যে ভারতে অনুষ্ঠিত কোনো এক কল্পিত মিটিং এ আরো অনেকের সঙ্গে আমি নাকি উপস্থিত ছিলাম, এবং সেই মিটিং এ আমাকে খুব একটা গুরু (!) দায়িত্বও নাকি দেয়া হয়েছে! ঠিক কি কারণে আপনি এরকম একটা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্ভট তথ্য দিয়েছেন, তা আজও আমার বুঝে আসে না।
আরও পড়ুন: দেশীয় অস্ত্রসহ যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
শাওনের ভাষ্য অনুযায়ী, আপনার পোস্ট করা বানোয়াট ওই তথ্যের কারণে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এ আমাকে আকস্মিক যে দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছে; ২২ টি ঘন্টা আমার সন্তান, মা-বাবা এবং প্রিয়জনদের যে অবর্ণনীয় পীড়নের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে সেজন্য আমি আপনাকে ২০১৫ সালের মতো মেসেঞ্জারে প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি আপনাকে সর্বসমক্ষে ৩ টি প্রশ্ন করতে চাই।
‘ঐ বানোয়াট কাগজের কোনো প্রমাণ কি আপনি গত এক বছরে পেয়েছেন? যদি পেয়ে থাকেন তাহলে সেটা এখনও প্রকাশ করেননি কেন? আর যদি প্রমাণ না পান এবং বুঝতে পারেন যে আপনার দেয়া তথ্য ভুল ছিল, তবে আপনার ভুল পোস্টের কথা স্বীকার করলেন না কেন?’
শাওন তার পোস্টে আরও প্রশ্ন করেন, নাকি অন্য অনেকের মতো আমার মুখ থেকে বের হওয়া সত্য বন্ধ করার জন্য আমাকে ভয় দেখানো-ই ছিল আপনার পোস্টের উদ্দেশ্য? আপনি একজন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মী, আপনার কাছে নিশ্চয়ই এই সত্যটি আমি আশা করতে পারি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৫ জানুয়ারি কলকাতার হোটেল পার্কে অনুষ্ঠিত সভায় সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে অভিনেত্রী ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওনের নাম উঠে আসে। এরপর তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এই অভিনেত্রীকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিজ পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।