শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোটের কার্যক্রম বন্ধ, অন্য দুই আসনে প্রচারণা তুঙ্গে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সারা দেশে যখন নির্বাচনী উত্তাপ ও উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ও স্তব্ধ চিত্র দেখা যাচ্ছে শেরপুর জেলায়। জেলার তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে জমজমাট প্রচারণা চললেও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের আকস্মিক মৃত্যুতে এই আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায়।
ইসি সূত্রমতে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করে পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণার বিধান রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিডনিজনিত সমস্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে মারা যান ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নুরুজ্জামান বাদল।
আরও পড়ুন: নির্বাচন সামনে রেখে মহেশপুরে জামায়াতের নারী সমাবেশ
প্রার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী এলাকায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তায় আগের কিছু পোস্টার-ব্যানার দেখা গেলেও গণসংযোগ ও মাইকিং বন্ধ থাকায় পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। শ্রীবরদী উপজেলার ভোটার জাকারিয়া বলেন, ‘চারদিকে যখন নির্বাচনের ব্যস্ততা, তখন প্রার্থীর মৃত্যুতে আমাদের এলাকায় সবকিছু থমকে গেছে। এমন নীরব নির্বাচন আমরা আগে দেখিনি।’
অন্যদিকে, জেলার বাকি দুটি আসন শেরপুর-১ (সদর) ও শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে বইছে ভিন্ন হাওয়া। সেখানে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা দিনরাত এক করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। পথসভা, মিছিল আর উঠান বৈঠকে সরব হয়ে উঠেছে রাজপথ। তবে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকলেও স্থানীয় বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকরা কিছু কিছু এলাকায় অনানুষ্ঠানিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শেরপুর জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের সকল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আপাতত বন্ধ। ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে পুনরায় তফসিল ঘোষণার কোনো আইনি সুযোগ নেই। ফলে একই জেলায় একদিকে যখন ভোটের উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে, অন্যপ্রান্তে তখন শোক আর নিস্তব্ধতার এক বিরল সহাবস্থান দেখছেন স্থানীয়রা।