০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৮

বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২০

জাতীয় সংসদ নির্বাচন  © সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে শীষের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে চার দফা হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের প্রার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী বহরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নানের (চিংড়ি মাছ প্রতীক) সমর্থকদের মধ্যে এসব হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে খাজুরিয়া বাজারের পাশে হুগলি ও ষোলদানা গ্রামে গণসংযোগে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান। সেখানে একটি উঠান বৈঠক চলাকালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে উপস্থিত হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে গুপ্টি ইউনিয়নের ষোলধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, খাজুরিয়া বাজার ও রুপসা বাজারে পৃথকভাবে চার দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: গুম-হত্যাসহ ৪৭ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান এবং ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন (৪৫), জিসান আহমেদ (৩০), ধানের শীষের সমর্থক রাজু পাটোয়ারী (৩৬), মারুফ (২৮), এমরান হোসেন স্বপন (৪০), আব্দুল কাদের (৪০), যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ, জসিম পাটোয়ারী, ইউসুফ, শ্রমিক দলের সভাপতি আলী হোসেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, আহতদের বেশিরভাগই ইট-পাটকেলের আঘাতে জখম হয়েছেন। অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান অভিযোগ করেন, ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের সমর্থকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, বিচার না পেলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে, ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মীরা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ যারা অশান্ত করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন জানান, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে। খাজুরিয়া ও রুপসা বাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে এখনও কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।