০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৯

‘উইন্টার ইজ কামিং’— দাদু ফ্যান ক্লাবের সাঁটানো পোস্টারগুলোয় কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে?

গেম অব থ্রোন্সের আদলে জামায়াত আমিরের ব্যানার  © টিডিসি

জনপ্রিয় টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোন্সের আদলে তৈরি একটি ব্যানার ঘিরে চট্টগ্রামে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ব্যানাগুলোতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম নগরীর বড়পোল ও চকবাজার এলাকায় টানানো হয়েছে। যা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতারা জানিয়েছেন, ব্যানারের সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি কারা তৈরি করেছে, সে বিষয়েও তারা অবগত নন।

এদিকে, আসন্ন নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সফর করছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই সফরের ধারাবাহিকতায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিনি কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা।

সফরকালে তার কক্সবাজারের মহেশখালী ও সদর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া, সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ, এই পাঁচটি স্থানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

এই সফরকে কেন্দ্র করেই গেম অব থ্রোন্স সিরিজের বহুল আলোচিত সংলাপ ‘উইন্টার ইজ কামিং’ ব্যবহার করে ডা. শফিকুর রহমানের একটি ছবি সংবলিত ব্যানার লাগানো হয়েছে। ব্যানারে তাকে সামনের দিকে দাঁড়িয়ে তলোয়ার আকৃতির একটি দাঁড়িপাল্লা হাতে দেখা যায়। ব্যানারের ওপরের অংশে বড় করে লেখা রয়েছে ‘উইন্টার ইজ কামিং’। আর একেবারে নিচে ছোট অক্ষরে উল্লেখ করা হয়েছে,‘দাদু ফ্যান ক্লাব চট্টগ্রাম’।

ঘাঁটাঘাটি করে জানা গেছে, ‘উইন্টার ইজ কামিং’ হলো 'গেম অব থ্রোন্স'-এর সবচেয়ে জনপ্রিয় সংলাপ এবং হাউস স্টার্কের মূলমন্ত্র। সাধারণ অর্থে এটি কেবল ঋতু পরিবর্তনের কথা বললেও, এর গভীরতা অনেক বেশি। এই বাক্যের মাধ্যমে মূলত আসন্ন কোনো বড় বিপদ বা কঠিন সময়ের প্রতি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। স্টার্ক পরিবারের সদস্যরা এটি ব্যবহার করে নিজেদের এবং অন্যদের মনে করিয়ে দিতে যে, সুসময় বা আরামের দিন চিরস্থায়ী নয়; তাই প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে সবসময় প্রস্তুত থাকা উচিত।

সিরিজের প্রেক্ষাপটে এর একটি অতিপ্রাকৃত অর্থও রয়েছে। এটি মূলত উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা রহস্যময় এবং ভয়ংকর শত্রু 'হোয়াইট ওয়াকার'দের আগমনের সংকেত দেয়, যা পুরো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি। বর্তমান সময়ে এই বাক্যটি পপ-কালচার ছাড়িয়ে বাস্তব জীবনেও একটি শক্তিশালী প্রবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি এখন যেকোনো বড় ধরণের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা বা সামাজিক সংকটের পূর্বাভাস দিতে প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সংক্ষেপে, এটি একটি জীবনদর্শন যা আমাদের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সজাগ ও ধৈর্যশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়।

এ অনুযায়ী ধারণা করা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্র শিবিরের হাউস স্টার্কের সদস্য, যারা আসন্ন ‘উইন্টার’ সম্পর্কিত সতর্কবাক্য উচ্চারণ করছে এবং নিজেদের ভয়ঙ্কর শত্রু ‘হোয়াইট ওয়াকার’দের আগমন ও তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতির সংকেত দিচ্ছে। কেননা এই শীতে হোয়াইট ওয়াকারদের আগমনের পর ‘দুঃসময়’ শুরু হবে। এই দুঃসময়ের আগমন ঠেকাতেই হাউস স্টার্করা এই সতর্কবাক্য উচ্চারণ করে থাকে। তবে জামায়াত বা ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতারা বলছেন, এটা তাদের নিজেদের কর্মসূচি নয়। 

আরও পড়ুন: এপস্টেইনের নথিতে যেভাবে উঠে এলো বিএনপি নেতার নাম

ব্যানারের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় গণমাধ্যমকে বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতগুলো ফ্যান পেজ থেকে ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছিল। এরপর এগুলো প্রিন্ট কেউ ব্যানার আকারে লাগিয়েছে। এটির সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। এই ছবির সেইভাবে কোনো অর্থ নেই বলে আমি মনে করি।'

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী সেক্রেটারী মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, 'বিষয়টি শুনিনি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এমন কোনো ব্যানার লাগানো হয়নি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে খবর নিচ্ছি।'

প্রসঙ্গত, গেম অব থ্রোন্স হলো একটি জনপ্রিয় আমেরিকান টেলিভিশন ফ্যান্টাসি সিরিজ। এটি লেখক জর্জ আর. আর. মার্টিনের উপন্যাস সিরিজ অ্যা সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার অবলম্বনে নির্মিত। সিরিজটি এইচবিও চ্যানেলে ২০১১ সালে প্রচার শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে শেষ হয়।

এর কাহিনী মূলত কাল্পনিক মহাদেশ ওয়েস্টেরস ও এসোসকে ঘিরে, যেখানে বিভিন্ন রাজপরিবার লৌহ সিংহাসনের দখল নিতে ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ, বিশ্বাসঘাতকতা, ড্রাগন, জাদু ও অতিপ্রাকৃত উপাদানের সমন্বয়ে সিরিজটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

এতে একাধিক প্রধান চরিত্র রয়েছে, যাদের প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদা ও সময়ের সঙ্গে বদলায়। তবে কিছু চরিত্রকে সাধারণভাবে নায়কের ভূমিকায় দেখা হয়। জন স্নোকে সবচেয়ে বেশি নায়কসুলভ চরিত্র ধরা হয়। তিনি ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন। নাইটস ওয়াচের সদস্য হিসেবে তিনি উত্তর দিকের মানুষের রক্ষায় লড়াই করেন। ডেনেরিস টারগারিয়েন শুরুতে নিপীড়িতদের মুক্তিদাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। দাসপ্রথা বিলুপ্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবেই তার উত্থান ঘটে।