৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৪

দুই আলেম ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, ত্রিমুখী লড়াইয়ে সিলেট-৫

মুফতি আবুল হাসান, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি ও মামুনুর রশীদ  © টিডিসি সম্পাদিত

কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমি; ১১ দলীয় জোট সমর্থিত (জামায়াত জোট) খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও সিলেট জেলা বেফাকের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবুল হাসান; বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৪ লাখ ভোটারের এ আসনে দুই আলেম ও বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে সিলেট-৫। ত্রিমুখী এই লড়াইয়ে দিন যতই যাচ্ছে, নির্বাচনী মাঠে ততই ছড়াচ্ছে উত্তাপ। মিছিল, সমাবেশ, পথসভা, উঠান বৈঠক আর গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। দুই আলেমের কে হচ্ছেন এ জনপদের কাণ্ডারী, নাকি তাদের ভোটের লড়াইয়ে সুযোগ নিতে যাচ্ছেন মামুনুর।  

জানা গেছে, বিএনপি জমিয়তের জন্য সারাদেশে যে ৪টি আসন ছেড়ে দিয়েছে তার একটি সিলেট-৫। এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক। বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ছিলেন তিনি। তবে সেবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও এবার তার প্রতীক খেজুরগাছ। ওয়াজ মাহফিল ও দীর্ঘদিন থেকে মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কাজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিএনপির সমর্থন ওবায়দুল্লাহ ফারুকের ভোট যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি। এ ছাড়া এই অঞ্চলে জমিয়ত সাংগঠনিকভাবে রয়েছে শক্ত অবস্থান।

আসনটিতে জামায়াত ইসলামী মনোনীতি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও শেষ মুহুর্তে দলটি এ আসন তাদের শরীক দল খেলাফত মজলিসের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। খেলাফত মজলিস থেকে এ আসনে প্রথমবারের মত প্রার্থী হয়েছেন জেলা বেফাকের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবুল হাসান। রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন হলেও সিলেট জুড়ে ‘মুফতি সাহেব’ নামে তিনি ব্যাপক পরিচিত। এ ছাড়া এই অঞ্চলে জমিয়ত সাংগঠনিকভাবে একটা অবস্থানে রয়েছে। কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ভোটের একটি অংশ তার বাক্সে যাবে বলে ধারণা জনসাধারণের।

এবারের নির্বাচনে ‘মুফতি সাহেব’ নতুন প্রার্থী হলেও একজন কওমী আলেম হিসেবে ওয়াজের মঞ্চে দীর্ঘদিনের পরিচিতব্যক্তিত্ব। জকিগঞ্জ উপজেলা থেকে তিনিই একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় এ উপজেলার ভোটের বড় একটি অংশ তিনি পাবেন বলে ধারণা। এ ছাড়া এ আসনে জামায়াতের বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। অতীতে এখান থেকে জামায়াতের মাওলানা ফরিদ চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। জোটের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় জামায়াতের ভোট মুফতি সাহেবের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান আসিফের

বিএনপি এ আসনটি শরীক দল জমিয়তের জন্য ছেড়ে দিলেও নিজেদের বিদ্রোহী ঠেকাতে পারেনি। আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন জেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্র থেকে তার বহিষ্কারাদেশ ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ চাকসুর সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ এলাকায় ‘চাকসু মামুন’ নামে সর্বাধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন থেকে তিনি কানাইঘাট, জকিগঞ্জ এলাকায় কাজ করছেন। বিএনপি থেকে বহিস্কৃত চাকসু মামুন এখন নিজেকে ‘জনতার প্রার্থী’ পরিচয়ে ফুটবল মার্কা নিয়ে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা তার মূল শক্তি। সেই সাথে তৃণমূল বিএনপির অনেক ভোটও চাকসু মামুনের বাক্সে যাবে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

দেলোয়ার নামের এক ব্যবসায়ী জানান, যেহেতু এখানে কওমী মাদরাসার সংখ্যা বেশি তাই ওবায়দুল্লাহ ফারুক হুজুরের অবস্থান ভালো। সেই সাথে বিএনপির সমর্থন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। 

মুন্না নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন কারণ জামায়াতের দলীয় ভোট এখানকার ফলাফলের বড় নিয়ামক। লিটন নামের একজন স্কুল শিক্ষক জানান, দল থেকে বহিস্কৃত হলেও তৃণমূল বিএনপির অনেকেই চাকসু মামুনকে ভোট দিবেন। এছাড়া তরুণদের মধ্যে তার ব্যাপক  সাড়া রয়েছে।