স্যার ফজলে হাসানের নাইট উপাধি পাওয়ার নেপথ্যে

স্যার ফজলে হাসানের নাইট উপাধি পাওয়ার নেপথ্যে
স্যার ফজলে হাসানের নাইট উপাধি পাওয়ার নেপথ্যে  © সংগৃহীত

১৯৪৭ সালের পর স্যার ফজলে হাসান আবেদ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে গ্রহণ করেন নাইট কমান্ডার অব দ্য মোস্ট ডিসটিঙ্গুইসড অর্ডার অব সেন্ট মাইকেল অ্যান্ড সেন্ট জর্জ।

ব্রিটিশ সরকার ১৩৪৮ সাল থেকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য নাইট উপাধি ঘোষণা করে। বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কটি দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ায় তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস চেয়ার স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। ২০১০ সালে তিনি ব্রিটেনের সম্মানজনক নাইট উপাধিতে ভূষিত হন।

মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের সেবা করতে গিয়ে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন ফজলে হাসান আবেদ। এক লাখ কর্মী নিয়ে শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর ১১টি দেশের ১২ কোটি মানুষকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে চলেছে ব্র্যাক।

আরও পড়ুন: বিতর্কের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

বেসরকারি উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া ফজলে হাসান আবেদ সমাজকর্মের জন্য স্যার উপাধি পাওয়া ছাড়াও বিশ্বের বহু সম্মানিত পুরস্কার পেয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত করেছেন।

৮৩ বছর বয়সে ২০১৯ সালে স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্র্যাকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। প্রতিষ্ঠানটির ইমেরিটাস চেয়ার নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা করার পর ব্রাক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।

এরপর ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচারে ভর্তি হয়েছিলেন। সেটা বাদ দিয়ে লন্ডনের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টসে ভর্তি হন স্যার ফজলে হাসান। ১৯৬২ সালে তিনি প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন।

১৯৮০ সালে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার, ২০১১ সালে ওয়াইজ প্রাইজ অব এডুকেশন, ২০১৪ সালে লিও টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডেল, স্প্যানিশ অর্ডার অব সিভিল ম্যারিট, ২০১৫ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পুরস্কার অর্জন করেন।

সর্বশেষ চলতি বছর সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাউথ এশিয়ান ডায়াসপোরা অ্যাওয়ার্ড, শিক্ষায় ভূমিকা রাখায় ইয়াডান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

২০ ডিসেম্বর মৃত্যুর পর তাকে ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী করবস্থানে সমাহিত করা হয়। এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছিল। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।


সর্বশেষ সংবাদ