নেতাকে টাকা দিয়েও পেলেন না চাকরি, যুবকের বিষপান

চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্য ও স্থানীয় এক কর্মীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীর চাকরির জন্য ঋণ নিয়ে টাকা দিয়েও তার চাকরি মেলেনি। এর মধ্যে টাকা শোধের জন্য তাগাদা বাড়তে থাকায় মেমারির দুর্গাপুর পঞ্চায়েত এলাকার এক ব্যক্তি কীটনাশক খেয়েছেন বলে দাবি পরিবারের দাবি।

পুলিশের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানিয়েছে, মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে ওই ব্যক্তির জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের দাবি, রাজনৈতিক চক্রান্ত এটি। পেশায় টোটোচালক ওই ব্যক্তির অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তৃণমূল কর্মী শুভঙ্কর মজুমদার ৫৫ হাজার টাকা নেন। চাকরির লোভ দেখিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য মণিকা রায় তাঁকে দিয়ে ‘অনৈতিক’ কাজ করিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

ওই ব্যক্তি দাবি করেন, মণিকা আমাকে দিয়ে কয়েক জনের টাকাও তুলিয়েছিলেন। এখন ফেরাতে অস্বীকার করছেন। মাথা ঠিক রাখতে পারছিলাম না। স্ত্রীর অভিযোগ, আমরা গরিব মানুষ। মণিকা ও শুভঙ্কর আশা-কর্মীর চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা থেকে ধার নিয়ে তাঁকে ৫৫ হাজার টাকা দেন। তবে চাকরি হয়নি, টাকা ফেরতের তাগাদাও বাড়ছে। এ নিয়ে দূরত্ব তৈরি হয়। দুই ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাই।

আরো পড়ুন: এবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিনে নেওয়ার কথা বলছেন ইলন মাস্ক

মণিকার পাল্টা দাবি, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্কই নেই। চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার মতো সদস্যের চাকরি দেওয়ার কী ক্ষমতা আছে? শুভঙ্করও বলেন, ‘আমার চাকরি দেওয়ার যোগ্যতা নেই। মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ পেয়ে মামলা হয়েছে। তদন্ত হচ্ছে।

জেলা (বর্ধমান সদর) বিজেপির মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, এ ঘটনা একটি উদাহরণ মাত্র। তৃণমূলের শীর্ষ থেকে নিচু স্তর অবধিদুর্নীতিতে যুক্ত। রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র দেবু টুডুর বক্তব্য, কী ঘটেছে, সেটি জানা প্রয়োজন।


সর্বশেষ সংবাদ